পুলিশ কর্মকর্তা সেজে চাকরির ফেরিওয়ালা, অতঃপর....
নিজেকে পুলিশের বড় কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে অন্যকে দেন চাকরির প্রলোভন। এরপর হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। এমন অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন জাকির। তবে এখানেই শেষ নয়, তার এই প্রতারণার পেশায় রয়েছেন আরো অনেকেই। তারা সবাই একই চক্রের সদস্য। শুধু বগুড়াতেই নয়, জেলার বাইরেও চাকরি বিক্রির নামে করেন প্রতারণা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমনটাই জেনেছে পুলিশ।
শুক্রবার তাকে আদালতে পাঠানো হবে। এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বগুড়া সদরের সাতমাথা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে বগুড়া জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। এ সময় তার কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা ও পুলিশের নিয়োগ পরীক্ষার প্রবেশ পত্রের ফটোকপি পাওয়া যায়। যা লিখিত পরীক্ষার প্রবেশ পত্রের ফটোকপি। গ্রেফতারকৃত ৫৫ বছরের জাকির হোসেন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার চকসেকেন্দার গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা একই গ্রামের মৃত আব্দুস সালাম।
জানা যায়, জাকির বেকার যুবক-যুবতীদের সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। খোঁজ পেয়ে তাকে গ্রেফতারের পর চক্রের বাকিদেরও ধরতে মাঠে নেমেছে পুলিশ। জাকিরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে তার দুই সহযোগীর নাম। তারা হলেন- গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক ও বগুড়া সোনাতলা উপজেলার রাণীরপাড়া গ্রামের সানা। এছাড়াও তাদের চক্রে রয়েছেন অজ্ঞাত আরো অনেকে।
প্রতারণার শিকার ৫৫ বছরের ইকবাল হোসেন নামে একজনের অভিযোগের ভিত্তিতে জাকিরকে গ্রেফতার করা হয়। ইকবাল বগুড়া সদরের বুজরুগবাড়ীয়া গ্রামের বাসিন্দা। প্রতারণার ঘটনায় বৃহস্পতিবার থানায় মামলা করেন তিনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইকবালের ছেলে বগুড়া জেলার পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রার্থী হিসেবে আবেদন করেন। জাকিরের সহযোগী আব্দুর রাজ্জাক বিষয়টি জানতে পেরে ইকবালের বাড়িতে গিয়ে তাকে বলেন, আমার পরিচিত লোক আছে তিনি আপনার ছেলেকে পুলিশের চাকরি পাইয়ে দেবেন। তবে এর বিনিময়ে টাকা লাগবে ১৪ লাখ। ওই সময় ইকবাল বলেন, তার ছেলে মেধাবী, এমনিতেই চাকরি হয়ে যাবে। এছাড়াও বর্তমানে পুলিশের চাকরি নিতে টাকা লাগে না। এসব শুনে ইকবালকে বিভিন্ন ধরণের প্রলোভন দেওয়াসহ ভয় দেখানো শুরু করেন আব্দুর রাজ্জাক।
অবশেষে বাধ্য হয়ে টাকা দেওয়ার বিষয়টি ভেবে দেখতে সময় চান ইকবাল। এর মধ্যেই তার ছেলে শারীরিক মাপ, কাগজপত্র যাচাই, শারীরিক, লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষা শেষে প্রাথমিকভাবে উত্তীর্ণ হন। খবর পেয়ে আব্দুর রাজ্জাক তার দুই সহযোগীকে নিয়ে আবারো ইকবালের কাছে যান। ওই সময় প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে জাকিরকে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে ইকবালের সঙ্গে পরিচয় করে দেন তিনি।
জাকির তখন ইকবালকে বলেন, তিনি পুলিশের বড় কর্মকর্তা। তিনি চাইলেই তার ছেলেকে চাকরি দিতে পারেন, আবার বাদও দিতে পারেন। এমন কথা বলে ইকবালের কাছে ওই দিনই ১০ লাখ টাকা দাবি করেন জাকির। এ সময় জাকিরসহ অন্য প্রতারকরা ইকবালকে বলেন টাকা না দিলে তার ছেলেকে মেডিকেল টেস্টে বাদ দেওয়া হবে।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্তদের চাপে গত ২১ মার্চ ৫ লাখ টাকা দিতে বাধ্য হন ইকবাল। একই সঙ্গে নিজের স্বাক্ষর করা ১৪ লাখ টাকার চেকসহ ছেলের লিখিত পরীক্ষার প্রবেশপত্রের ফটোকপিও তাদের দেন তিনি। এ সময় প্রতারকরা তাকে বলেন বাকি টাকা পরিশোধ করার পর তার স্বাক্ষর করা চেক তাকে ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু পরবর্তীতে অভিযুক্তদের বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়া শুরু করেন ইকবাল। একপর্যায়ে তিনি জানতে পারেন জাকির আসলে পুলিশ কর্মকর্তা নন। এমনকি তাদের মধ্যে কেউই পুলিশের চাকরি করেন না। তারা সবাই প্রতারক। সবকিছু জেনে যাওয়ার পর বগুড়া সদর থানায় এ ঘটনায় মামলা করেন ইকবাল।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শরাফত ইসলাম বলেন, ইকবালের মামলার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে জাকিরকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছে আত্মসাৎ করা টাকার মধ্যে ৩ লাখ টাকাও পাওয়া যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন জাকির।
তিনি আরো বলেন, জাকিরকে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।