পদ্মার পানি বাড়ায় লালপুরের চরাঞ্চল প্লাবিত, বিলীন অর্ধশত ঘরবাড়ি
নাটোরের লালপুরে পদ্মা নদীর পানি বাড়তে থাকায় উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানির স্রোত ও নদীভাঙনে ইতোমধ্যে অর্ধশত বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। তলিয়ে গেছে প্রায় ৫০২ হেক্টর জমির ফসল ও সবজি। অনেক বসতবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি চরাঞ্চলে দেখা দিয়েছে গোখাদ্যের সংকট।
নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রিফাত করিম জানান, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঈশ্বরদী হার্ডিং ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১৩ মিটার। এ হিসাবে লালপুরে পদ্মার পানি বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে আগের দিনের তুলনায় পানি ৪ সেন্টিমিটার কমেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা বর্ষণে পদ্মার পানি বাড়ছিল। এতে উপজেলার ঈশ্বরদী, লালপুর ও বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি চর এবং নদীতীরবর্তী নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি থাকায় চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
৫০২ হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে
লালপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আকস্মিক পানি বৃদ্ধিতে চরাঞ্চলের প্রায় ৫০২ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪৩৫ হেক্টর আখ, ৭ হেক্টর সবজি এবং ৬০ হেক্টর ফলের বাগান রয়েছে। এতে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের দিয়ারশংকরপুর চরের কৃষক মো. আবুল কাশেম বলেন, হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে পানি বাড়ায় তার দুই বিঘা জমির মুলা ও বেগুনের ক্ষেত পুরোপুরি পানির নিচে চলে গেছে। পানি আরও বাড়লে তার চার বিঘা মুলা ও বেগুনের ক্ষেতও তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।
গোখাদ্যের সংকটে চরাঞ্চলের খামারিরা
পানি বৃদ্ধিতে শুধু ফসল নয়, গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন চরাঞ্চলের মানুষ। ঈশ্বরদী ইউনিয়নের কাইগিমারি চরের মহিষের খামারি খায়রুল ইসলাম বলেন, বানের পানিতে পুরো চরাঞ্চল ডুবে গেছে। কোথাও ঘাস নেই। ফলে মহিষকে শুকনো ধানের খড় ও পানি খাওয়াতে হচ্ছে।
নদীভাঙনে বিলীন বসতঘর
পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পদ্মায় তীব্র নদীভাঙনও দেখা দিয়েছে। ভাঙনের কবলে পড়ে বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নওসারা সুলতানপুর পদ্মার চরে প্রায় ৫০টি বসতঘর এবং বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হঠাৎ করে ভাঙন শুরু হওয়ায় অনেক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। অনেকে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় বলেন, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা চরাঞ্চল পরিদর্শন করেছেন। পদ্মার পানি বাড়ায় চর এলাকার বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি কমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবীর হোসেন বলেন, পদ্মার পানি বৃদ্ধি এবং চরাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। ইতোমধ্যে বিলমাড়িয়ার নওসারা সুলতানপুর চরে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ পরিবারের মধ্যে পরিবারপ্রতি ৩০ কেজি করে জিআর চাল বিতরণ করা হয়েছে।