ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

ডেঙ্গু পরীক্ষার তথ্য চাওয়ায় নারীকে মারধরের অভিযোগ, মাথায় ৩ সেলাই

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:১০, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডেঙ্গু পরীক্ষার তথ্য চাওয়ায় নারীকে মারধরের অভিযোগ, মাথায় ৩ সেলাই
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার বিষয়ে তথ্য জানতে গিয়ে এক নারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন কথিত দালালের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কানিজা আফরোজ (৪০) নামে ওই নারী আহত হয়েছেন। চিকিৎসা নিতে গেলে তাঁর মাথায় তিনটি সেলাই দেওয়া হয়।

বুধবার দুপুরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহত কানিজা আফরোজ চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার বালুবাগান এলাকার বাসিন্দা। তাঁর অভিযোগ, ছেলের ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়ে তথ্য জানতে তিনি হাসপাতালের বহির্বিভাগে (আউটডোর) যান। সেখানে সিবিসি পরীক্ষা করা হয় কি না, তা জানতে চাইলে আশপাশে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

কানিজার অভিযোগ, ওই ব্যক্তিরা তাঁকে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পরীক্ষা করানোর জন্য চাপ দিতে থাকেন। তিনি পরীক্ষা সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে সেখানে যেতে রাজি না হলে তাঁকে জোর করে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

তিনি বলেন, একপর্যায়ে কয়েকজন ব্যক্তি প্লাস্টিকের পাইপ, রডসহ বিভিন্ন জিনিস দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। পরে তিনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেন। সেখানে তাঁর মাথায় তিনটি সেলাই দেওয়া হয়।

কানিজা আফরোজ বলেন, ‘আমি শুধু জানতে চেয়েছিলাম এখানে সিবিসি পরীক্ষা হয় কি না। এরপর কয়েকজন আমাকে হাসপাতাল থেকে বের করে দিতে চান। আমি বলি, আগে তথ্যটা জেনে নিই। তখন তাঁরা বলেন, এখানে পরীক্ষা হয় না, ক্লিনিকে যেতে হবে। আমি যেতে না চাইলে আমাকে মারধর করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বাঁচাও বলে চিৎকার করেছি। তাঁরা আমাদের মেরে ফেলবে বলে ভয় দেখাচ্ছিলেন। কিন্তু কেউ এগিয়ে এসে সাহায্য করেননি।’

কানিজা আফরোজের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালটিতে কথিত দালালদের দৌরাত্ম্য রয়েছে। তাঁরা বিভিন্ন রোগী ও তাঁদের স্বজনকে নানা ধরনের কথা বলে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এর প্রতিবাদ করায় তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় দায়ীদের শাস্তি দাবি করেন ওই নারী।

এ বিষয়ে হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মাহবুব হাসান ঘটনার কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে হাসপাতালের কোনো কর্মচারী না থাকায় এবং কেউ এগিয়ে না আসায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি আহত নারী আইনি ব্যবস্থা নিতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে সহযোগিতা করবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!