সিরাজগঞ্জে বাড়ছে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব
সিরাজগঞ্জে দিন দিন বেড়ে চলেছে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব। নিয়ন্ত্রণ, নিধন ও টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ থাকায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও শহরাঞ্চলে কুকুরের উৎপাত বেড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বাড়ছে কুকুরের কামড়ে আহত মানুষের সংখ্যাও।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিশেষ করে রাতে কুকুরের উৎপাত বেশি দেখা যায়। রাত করে বাড়ি ফেরা মানুষকে প্রায়ই দলবদ্ধ কুকুরের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। পথচারীদের গতিরোধের পাশাপাশি রিকশা, মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাকেও কুকুর তাড়া করছে। এতে আতঙ্কে অনেকেই বিকল্প পথ ব্যবহার করছেন।
.png)
সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন বিভিন্ন উপজেলা থেকে কয়েকশ মানুষ কুকুরের কামড়ের পর জলাতঙ্কের টিকা নিতে হাসপাতালে আসছেন। জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ভিড় বাড়ছে।
শিশু, তরুণ ও বৃদ্ধদের পাশাপাশি গবাদিপশুও কুকুরের আক্রমণের শিকার হচ্ছে। শহর ও গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠেও এক ব্যক্তিকে কুকুর কামড়েছে বলে জানা গেছে।
বুধবার কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, এ পর্যন্ত কুকুরের কামড়ে আহত ১৫ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের জলাতঙ্কের টিকাও দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চরাঞ্চলের নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে চার শিশু ও এক বৃদ্ধসহ সাতজন আক্রান্ত হয়েছেন। গান্ধাইল, সোনামুখী, চালিতাডাঙ্গা এবং পার্শ্ববর্তী রতনকান্দি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আরও আটজন কুকুরের আক্রমণের শিকার হয়েছেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে প্রতিদিন গড়ে আট থেকে ১০ জন জলাতঙ্কের টিকা নিতে আসছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নাটুয়ারপাড়া গ্রামের ৭০ বছর বয়সী রফিকুল কুকুরের কামড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁর মুখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ের ক্ষত রয়েছে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ছাড়া বিলসুন্দর গ্রামের আট বছর বয়সী ওমর ফারুক ও ১৩ বছর বয়সী মারুফ স্কুলে যাওয়ার পথে কুকুরের আক্রমণের শিকার হয়। নাটুয়ারপাড়া গ্রামের আট বছর বয়সী সুরাইয়াও বাড়ির সামনে বিস্কুট খাওয়ার সময় কুকুরের আক্রমণের শিকার হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বেওয়ারিশ কুকুরের আচরণে উগ্রতা বেড়েছে। সামান্য কারণেও এগুলো মানুষ ও গবাদিপশুর ওপর আক্রমণ করছে।
কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রাসেল বলেন, প্রতিদিন প্রায় আট থেকে ১০ জন জলাতঙ্কের টিকা নিতে হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে অনেকেই কুকুরের আক্রমণের শিকার। হাসপাতালে টিকাসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শহিদুল্লাহ দেওয়ান বলেন, পুরো জেলাতেই কুকুরের উপদ্রব বেড়েছে। একই সঙ্গে কুকুরের কামড়ের ঘটনাও বাড়ছে। প্রতিদিন বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ মানুষ জলাতঙ্কের টিকা নিতে হাসপাতালে আসছেন।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত টিকার মজুত রয়েছে। তাই এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।