সাত বছরের শিশুর আঙুল কাটার অভিযোগ, পুলিশ সদস্য ও স্ত্রী গ্রেপ্তার
নাটোর শহরের বড় হরিশপুর এলাকার চেয়ারম্যান পাড়ায় পূর্ববিরোধের জেরে সাত বছরের এক শিশুর হাতের একটি আঙুল ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ সদস্য ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য সাকিল (৪০) ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে চেয়ারম্যান পাড়ার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত শিশুর নাম বাইজিদ বিন মাহমুদ (৭)। সে ওই এলাকার বাসার মালিক ও ব্যাংক কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান মিলনের ছেলে। অভিযুক্ত সাকিল নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের অ্যাকাউন্টস শাখায় কর্মরত বলে জানা গেছে।
.png)
শিশুটির বাবা মাহমুদুল হাসান মিলন জানান, চাকরির কারণে তিনি ঢাকায় থাকেন। তার নাটোরের বাসায় সাকিল ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। বুধবার বাড়ির ভাড়াটিয়াদের উদ্যোগে একটি পিকনিকের আয়োজন করা হয়। সেখানে সাকিলের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ের সঙ্গে বাইজিদের ঝগড়া বা কথাকাটাকাটি হয়।
মিলনের অভিযোগ, ওই ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে সাকিল ও তার স্ত্রী বাইজিদকে জোর করে একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার হাতের একটি আঙুল কেটে দেওয়া হয়।
পরে শিশুটিকে দ্রুত নাটোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
ঘটনার খবর পেয়ে শিশুটির বাবা নাটোরে এসে বাসার ভেতরে রক্তের দাগসহ বিভিন্ন আলামত দেখতে পান। পরে তিনি পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ শিশুটির কেটে দেওয়া আঙুলের অংশসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করে।
ওসি মনসুর রহমান জানান, ঘটনার পর সাকিল ও তার স্ত্রী আত্মগোপনে চলে যান। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার কারণ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।