শেরপুরে অ্যাওয়ার্ডজয়ী রাজিয়া সামাদকে সংবর্ধনা
‘আনসাং ওমেন নেশন বিল্ডার্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ অর্জন করায় সমাজকর্মী ও শেরপুর ডায়াবেটিক সমিতি ও হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা রাজিয়া সামাদ ডালিয়াকে নিজ জেলা শেরপুরে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে শহরের একটি হোটেলে ‘করিম অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাকে সম্মাননা স্মারক ও উপহার দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও আয়কর উপদেষ্টা সেরাজুল করিম পনির রাজিয়া সামাদ ডালিয়ার হাতে এসব তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে রাজিয়া সামাদ ডালিয়ার জীবন ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করেন শেরপুর সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান শিব শংকর কারুয়া, মডেল গার্লস ইনস্টিটিউটের প্রধান শিক্ষক দিলরুবা বেগম রূপা, নজরুল মঞ্চের জেলা আহ্বায়ক মো. ইমামুল হক রবিন, অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার মোশারফ হোসেন, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, সেলিম হোসেন ও সাংবাদিক হাকিম বাবুলসহ অন্যরা।
.png)
বক্তারা বলেন, রাজিয়া সামাদ ডালিয়ার এই পুরস্কার অর্জন শেরপুরবাসীর জন্য গর্বের। সমাজসেবায় দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পাওয়া এ সম্মান তাকে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে মানুষের জন্য কাজ করতে উৎসাহিত করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন বক্তারা।
সংবর্ধনার জবাবে রাজিয়া সামাদ ডালিয়া বলেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করার মধ্যেই তিনি আনন্দ খুঁজে পান। নিজের অর্থ না থাকলেও মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে কখনো অর্থের অভাব অনুভব করেননি। সমাজে অনেক ভালো মানুষ রয়েছেন, যারা অন্যকে সহায়তা করতে চান। তবে তাদের সহায়তা সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে মানুষের আস্থা অর্জন জরুরি।
তিনি বলেন, মানুষের প্রশংসা বা পুরস্কারের প্রত্যাশায় তিনি কাজ করেন না। মানুষের জন্য কাজ করাই তার কাছে আনন্দের। একসময় যারা তার কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করতেন, তারাই এখন সেবা নিতে এসে তার কাজের প্রশংসা করেন। বিষয়টি তাকে আরও উৎসাহিত করে।
রাজিয়া সামাদ ডালিয়া বলেন, কোনো বাধার কারণে থেমে গেলে চলবে না। মানুষের জন্য ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যেতে হবে। এর মাধ্যমেই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় সেরাজুল করিম পনিরের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে শেরপুরে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন রাজিয়া সামাদ ডালিয়া। তার উদ্যোগে শেরপুর ডায়াবেটিক সমিতি ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ রক্তসৈনিক ফাউন্ডেশন গড়ে তুলেছেন।
দুস্থ ও অসহায় মানুষের চিকিৎসায় সহায়তা, দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যয় বহন, চক্ষুসেবা এবং খেলাধুলায় পৃষ্ঠপোষকতাসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে তিনি যুক্ত রয়েছেন।
খান বাহাদুর ফজুর রহমান ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে চরাঞ্চল ক্রিকেট একাডেমি গড়ে তোলার উদ্যোগও নিয়েছেন তিনি। প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সহায়তার পাশাপাশি বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে অবদান রাখছেন রাজিয়া সামাদ ডালিয়া। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয়ভাবে তিনি ‘শেরপুরের মাদার তেরেসা’ নামে পরিচিতি পেয়েছেন।
অনুষ্ঠানে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।