ঢাকা,  বুধবার   ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

টাঙ্গাইলে দুর্গাপূজার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, বেড়েছে মণ্ডপ

বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯:১১, ৭ অক্টোবর ২০২৬
টাঙ্গাইলে দুর্গাপূজার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, বেড়েছে মণ্ডপ
টাঙ্গাইলের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরি, সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দরজায় কড়া নাড়ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। উৎসবকে ঘিরে টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলায় ১ হাজার ৩৫৭টি পূজামণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমা তৈরি, রং-তুলির কাজ, মণ্ডপ সাজসজ্জা, তোরণ নির্মাণ ও আলোকসজ্জা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগর ও সংশ্লিষ্টরা।

শরতের এই সার্বজনীন উৎসবকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন মণ্ডপে চলছে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ। শিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় বাঁশ, কাঠ, খড় ও মাটি দিয়ে তৈরি দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমা ধীরে ধীরে পূর্ণতা পাচ্ছে। কোথাও চলছে মাটির প্রলেপ ও কারুকাজের শেষ ধাপ, আবার কোথাও প্রতিমায় পড়ছে রং-তুলির শেষ আঁচড়। এরপর অলংকার ও সাজসজ্জায় সজ্জিত করে প্রতিমা মণ্ডপে নেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে।

আগামী ১৫ অক্টোবর মহাপঞ্চমী ও ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। ১৭ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৮ অক্টোবর মহাষ্টমী, ১৯ অক্টোবর মহানবমী এবং ২০ অক্টোবর বিজয়া দশমীর বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদীয় দুর্গোৎসব।

জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্ট সূত্রে জানা গেছে, এবার টাঙ্গাইলে ১ হাজার ৩৫৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে মধুপুরে ৬০টি, ধনবাড়ীতে ৩৬টি, ঘাটাইলে ৯৪টি, কালিহাতীতে ১৮২টি, গোপালপুরে ৫৭টি, ভূঞাপুরে ৩৪টি, টাঙ্গাইল সদরে ২৩৩টি, নাগরপুরে ১৩৮টি, দেলদুয়ারে ১২৮টি, মির্জাপুরে ২৭০টি, বাসাইলে ৮১টি এবং সখীপুরে ৪৪টি মণ্ডপ রয়েছে।

গত বছর জেলায় ১ হাজার ২৪৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সে হিসাবে এবার মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ১১০টি।

শেষ মুহূর্তে ব্যস্ত কারিগররা

সরেজমিনে টাঙ্গাইল শহরের শ্রীশ্রী কালীবাড়ি, থানাপাড়া, সাবালিয়া, রেজিস্ট্রিপাড়া, কলেজপাড়া ও প্যারাডাইসপাড়া পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বাঁশ ও কাঠের কাঠামোর ওপর খড় দিয়ে তৈরি প্রতিমার অবয়বের পর এখন চলছে রং-তুলির কাজ। শিল্পীরা প্রতিমার চোখ, মুখমণ্ডল, পোশাক ও অলংকারের নকশা ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ডেকোরেটররা শুরু করেছেন তোরণ নির্মাণ ও আলোকসজ্জার কাজ।

প্রতিমা তৈরির কারিগর নিশিকান্ত পাল বলেন, প্রতি বছরই তারা দুর্গাপ্রতিমা তৈরির কাজের অপেক্ষায় থাকেন। এরই মধ্যে মাটির কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। এখন চলছে রং করার কাজ।

তিনি বলেন, কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের তুলনায় প্রতিমা তৈরিতে লাভ কমেছে। এ বছর তিনি পাঁচটি প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। টাঙ্গাইল শহরের বড় কালীবাড়ি ও রেজিস্ট্রিপাড়া ছাড়াও সিরাজগঞ্জ, নোয়াখালী এবং ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় প্রতিমা তৈরি করছেন তিনি। আকার ও কাজের ধরন অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিমার জন্য ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নিচ্ছেন।

নিশিকান্ত পাল বলেন, ‘লাভ-লোকসান যাই হোক, বংশগত পেশার প্রতি সম্মান রেখেই আমরা আনন্দের সঙ্গে প্রতিমা তৈরি করি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সব কাজ শেষ করে কমিটির কাছে প্রতিমা বুঝিয়ে দেওয়া হবে।’

রণদা প্রসাদ সাহার বাড়ির মণ্ডপেও প্রস্তুতি

মির্জাপুর উপজেলার কুমুদিনী হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার নিজ বাড়ির পূজামণ্ডপটিও জেলার অন্যতম আলোচিত মণ্ডপ। প্রতিবছর দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিদের আগমনে এ মণ্ডপ মুখর হয়ে ওঠে।

এ মণ্ডপের প্রতিমা তৈরি করছেন মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার নৌহাটা গ্রামের চন্দ্র পালের ছেলে অচিন্ত পাল। তিনি বলেন, মির্জাপুর সাহাপাড়া মধ্যপাড়া সার্বজনীন মণ্ডপের প্রতিমা তৈরির জন্য তিনি ১ লাখ টাকা পারিশ্রমিক নিচ্ছেন। পাশাপাশি টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইলের লোকনাথ মন্দির, ঝিনাইদহ শহরের তিনটি এবং মাগুরা ও ফরিদপুর শহরের দুটি মণ্ডপের প্রতিমাও তৈরি করেছেন তিনি।

নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা

জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি অমল ব্যানার্জি বলেন, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে তাদের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। সার্বিক নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি নিয়ে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে। প্রশাসনের পাশাপাশি প্রতিটি মণ্ডপে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকরাও দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার জেলায় পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে। সরকারিভাবে প্রতিটি মণ্ডপের জন্য ৫০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনে প্রশাসনসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার।

তিনি বলেন, দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নেতাদের সঙ্গে পুলিশের নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে। পূজাকে ঘিরে জেলায় গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন পূজামণ্ডপে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে।

পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাব ও আনসার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া মোবাইল টিম ও সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠে কাজ করবেন। এ বছরও টাঙ্গাইলে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী দুর্গার আগমন ও গমনকে ঘিরে প্রতিবছরই নানা তাৎপর্য রয়েছে। পূজার দিনগুলোতে ঘণ্টাধ্বনি, ঢাকের বাদ্য ও ভক্তদের অংশগ্রহণে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন মণ্ডপ মুখর হয়ে উঠবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্প্রীতির উৎসবে পরিণত হবে, এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

ডেইলি-বাংলাদেশ/টাঙ্গাইল/এমকে
eMythMakers
Transform Your Digital Presence
Enterprise-grade IT & Web Solutions
Our Expertise
Custom Web Dev News Portals Mobile Apps SEO & Marketing
Ready to Scale Up?
Partner with industry experts today.
Get Started Now
eMythMakers
Transform Your Digital Presence
Enterprise-grade IT & Web Solutions
Our Expertise
Custom Web Dev News Portals Mobile Apps SEO & Marketing
Ready to Scale Up?
Partner with industry experts today.
Get Started Now
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!