ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

তাড়াশে সরকারি জমির গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ, তদন্তের দাবি

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:৫৩, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
তাড়াশে সরকারি জমির গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ, তদন্তের দাবি
তাড়াশে ফল ও ছায়াদানকারী গাছ কেটে বিক্রীর অভিযোগ। ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন সড়কের অর্ধশত বছরের পুরোনো আম ও বটগাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে বিদ্যালয়ের পরিবেশ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ঘটনায় তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের ইসলামপুর (গোবরপাড়া) গ্রামে বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে চৌপাকিয়া-কুচিয়ামারা সড়কের পাশে থাকা বড় আকারের আম ও বটগাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে। আবেদনকারীদের দাবি, রাতের আঁধারে গাছগুলো কেটে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ তুলেছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে গাছগুলো পথচারীদের ছায়া দেওয়ার পাশাপাশি মাঠে কাজ করা কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের বিশ্রামের আশ্রয় ছিল। শিক্ষার্থীরাও গাছের ছায়ায় খেলাধুলা ও অবসর কাটাত। একই সঙ্গে গাছগুলো বিভিন্ন পাখির নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিল। গাছ কেটে ফেলায় এলাকার পরিচিত ছায়াঘেরা পরিবেশ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

আবেদনকারীদের আরও অভিযোগ, গাছ কাটার পর বিদ্যালয়ের সামনের নিজস্ব জমির সঙ্গে সরকারি জমি যুক্ত করে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও সৌন্দর্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে আবেদনে সংশ্লিষ্ট জমির খতিয়ান ও দাগ নম্বর উল্লেখ করে জমির মালিকানা ও গাছ কাটার ঘটনা তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগকারী গ্রামবাসী আব্দুল জব্বার, ময়নাল শেখ, বাচ্চু সরকার, ইসহাক আলী ও কুদ্দুস মোল্লা বলেন, গাছগুলো ছিল পথচারীদের আশ্রয়, কৃষকের স্বস্তি, পাখির নিরাপদ আবাসস্থল এবং শিশুদের নির্মল পরিবেশে বেড়ে ওঠার অন্যতম অবলম্বন। দীর্ঘদিনের এসব গাছ কেটে ফেলায় এলাকার পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা তাদের।

এলাকাবাসী জানান, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা ও বিদ্যালয়ের পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে দ্রুত সরেজমিনে জরিপ ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। গাছ কাটার অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি সরকারি জমিতে আইনবহির্ভূত নির্মাণকাজ হয়ে থাকলে তা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে সরকারি সম্পত্তি সংরক্ষণ এবং বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে আইনানুগ পদক্ষেপ নেবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/সিরাজগঞ্জ/এমকে
ট্যাগ: সিরাজগঞ্জ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!