গুজব-সাম্প্রদায়িক উসকানি ঠেকাতে বান্দরবানে বিজিবির বিশেষ নজরদারি
শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে বান্দরবানে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানি প্রতিরোধে বিশেষ নজরদারির পাশাপাশি জেলার নয়টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় প্রস্তুতি নিয়েছে বাহিনীটি। নিরাপত্তা কার্যক্রমে ১২ প্লাটুন সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতির পাশাপাশি ছয়টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। নিয়মিত টহলের সঙ্গে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ডগ স্কোয়াড ও মাইন সুইপিং টিম।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে বান্দরবান জেলা শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে এসব তথ্য জানান বিজিবির বান্দরবান সেক্টর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল রুবায়েত জামিল।
তিনি বলেন, গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানির বিষয়ে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করে সেক্টর কমান্ডার বলেন, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। যাচাই না করে কোনো তথ্য প্রচার না করার পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবেন বাহিনীর সদস্যরা। বান্দরবান সেক্টর সদর দপ্তরের পাশাপাশি এর অধীন রুমা ব্যাটালিয়ন-৯, বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন-৩৮ ও আলীকদম ব্যাটালিয়ন-৫৭-এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নয়টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় পূজামণ্ডপের পাশাপাশি আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও নিয়মিত টহল দেওয়া হচ্ছে। দায়িত্ব পালনের স্বচ্ছতা ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করা হচ্ছে বডি-অন ক্যামেরা। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় জেলা পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পূজা উদ্যাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে বিজিবি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক প্রচারণার বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে বাহিনীটি।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে ৩৮ বিজিবির বলিপাড়া জোন কমান্ডারসহ বাহিনীর অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিজিবি জানিয়েছে, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে নিরাপত্তাব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায়ও প্রস্তুত থাকবেন বাহিনীর সদস্যরা।