ঢাকা,  রোববার   ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

‘মারার উদ্দেশ্য ছিল না, দুর্ঘটনাবশত ঘটে গেছে: আমিনী

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২২:০৫, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
‘মারার উদ্দেশ্য ছিল না, দুর্ঘটনাবশত ঘটে গেছে: আমিনী
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

‘পিটিয়ে মারার উদ্দেশ্য ছিল না, দুর্ঘটনাবশত ঘটনাটি ঘটে গেছে, এ জন্য আমি অনুতপ্ত নই’ বলে মন্তব্য করেছেন সাতক্ষীরার দেবহাটায় ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে পিটিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনী। গ্রেফতারের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার রাত ১১টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার ফরিদপুর গ্রামের এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। দেবহাটা সার্কেল, কালীগঞ্জ থানা, দেবহাটা থানা ও এসআরবি (স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন)-৬-এর সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে আমিনীকে গ্রেফতার করেন। রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় তাকে। বিকাল ৪টার দিকে তাকে আদালতে পাঠায় পুলিশ।


থানায় হস্তান্তরকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমিনী বলেন, ‘আইনের দৃষ্টিতে আমি অপরাধী। তবে আমি যে কাজটি করেছি, আপনারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছেন। আল্লাহ পাক এর সঠিক ফয়সালা করবেন। তবে তাকে পিটিয়ে মারার উদ্দেশ্য ছিল না, দুর্ঘটনাবশত ঘটনাটি ঘটে গেছে।’

শামীমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় অনুতপ্ত কিনা সাংবাদিকরা জানতে চাইলে আমিনী বলেন, ‘না, এ জন্য আমি অনুতপ্ত নই। সে যে ওভাবে নাস্তিক ছিল, আমরা প্রথমে ধারণা পাইনি। পরে বিভিন্ন দেশ থেকে নাস্তিকরা যেভাবে মোবাইলে কল করে আমাকে হুমকি দিয়েছে, তাতে নিশ্চিত হয়েছি, সে আসলে নাস্তিক ছিল।’

দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন বলেন, ‘ফজলুল হক আমিনী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেবেন বলে জানিয়েছেন। এ কারণে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মনে করছে পুলিশ।’

গত মঙ্গলবার দেবহাটায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে শামীমকে (৩৮) পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি দেবহাটার সুবর্ণাবাদ গ্রামের বাসিন্দা। গত বৃহস্পতিবার রাতে নিহত শামীমের বড় ভাই আবদুল জলিল বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। এতে আমিনীকে (৪৫) প্রধান আসামি করে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। 

গত শুক্রবার ভোরে পুলিশ এজাহারভুক্ত ৫ ও ৬ নম্বর আসামি মোক্তার হোসেন খান (৫৩) ও আসাদুল ইসলাম মোল্যাকে (৪৬) গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। ওসি জানান, সিসিটিভি ফুটেজ ও মুঠোফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

নিহতের পরিবার জানায়, শামীম দীর্ঘদিন মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গত সোমবার তার ও স্ত্রীর বাগবিতণ্ডার একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অডিওতে ধর্ম অবমাননাকর মন্তব্য রয়েছে—এমন অভিযোগ ওঠার পর তার বাড়িতে হামলার চেষ্টা হয় এবং স্থানীয় একটি বাজারে তাকে মারধর করা হয়। পরে তিনি বিষপান করেন বলে পরিবার জানিয়েছে। স্থানীয় পল্লিচিকিৎসক মো. সবুরের চেম্বারে চিকিৎসা চলাকালে পরদিন শতাধিক মানুষ জড়ো হয়ে তাকে টেনেহিঁচড়ে বের করে মারধর করেন। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়।

দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতালে ভর্তির পর শতাধিক লোক ওয়ার্ডে ঢুকে শামীমকে আবার মারধর করেন। আনসার সদস্য, নিরাপত্তাকর্মী ও কর্মীরা তাদের থামাতে ব্যর্থ হন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। হাসপাতালের কয়েকটি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সব ফুটেজ দেখা সম্ভব হয়নি। পুলিশ আমাদের কাছে এখনও ফুটেজ চায়নি। চাইলে আমরা দিতে পারবো।’

এসআরবি-৬-এর সিপিসি-১, সাতক্ষীরার কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জায়েন উদ্দীন মুহাম্মদ যিয়াদ জানান, সকল ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে এসআরবি-৬-এর চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/সাতক্ষীরা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!