ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মহাষ্টমীতে কুমারী পূজা, ভক্তদের ঢল

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:০৩, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মহাষ্টমীতে কুমারী পূজা, ভক্তদের ঢল
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরে মহাঅষ্টমী উপলক্ষে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার দুপুরে কালাইশ্রীপাড়া গুরুচরণ রায়ের আখড়ায় টাউন সার্বজনীন দুর্গাপূজা কমিটির আয়োজনে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। পূজাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই মণ্ডপে ভক্তদের সমাগম ঘটে।

এবার ১০ বছর বয়সী ঈশিতা চক্রবর্তীকে কুমারী রূপে পূজা করা হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, কুমারী কন্যার মধ্যে দেবী দুর্গার মাতৃরূপের প্রকাশ ঘটে। তাই মহাঅষ্টমীতে কুমারী পূজাকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।

পূজামণ্ডপে আসা ভক্ত গায়েত্রী সাহা, রাকেশ রায় ও সঞ্জয় সাহা বলেন, কুমারী পূজা দেবী দুর্গার একটি বিশেষ রূপের আরাধনা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বামী বিবেকানন্দ ১৯০১ সালে বেলুড় মঠে কুমারী পূজার আয়োজন করেন। সেই ধারাবাহিকতায় ভক্তদের মধ্যে এ পূজার প্রচলন রয়েছে। তারা পরিবারসহ সবার মঙ্গল কামনা করেন। পাশাপাশি অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বিশ্বে শান্তি বিরাজের প্রার্থনা জানান।

টাউন সার্বজনীন দুর্গোৎসব মণ্ডপের পুরোহিত প্রসেঞ্জিৎ চক্রবর্তী বলেন, শাস্ত্রীয় বর্ণনা অনুযায়ী, অসুরবিনাশের কাহিনির সঙ্গে কুমারী পূজার প্রচলন জড়িত। কোলাসুরের অত্যাচারে দেবতারা বিপর্যস্ত হয়ে মহাকালীর শরণাপন্ন হন। দেবতাদের প্রার্থনায় সাড়া দিয়ে দেবী মানবকন্যার রূপ ধারণ করেন এবং কুমারী অবস্থায় কোলাসুরকে বধ করেন। সেই কাহিনি থেকেই পৃথিবীতে কুমারী পূজার প্রচলন হয়েছে বলে শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে।

এর আগে সকালে মণ্ডপে সন্ধিপূজা অনুষ্ঠিত হয়। ১০৮টি প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে এ পূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

এদিকে, মহাঅষ্টমী উপলক্ষে রাতে জেলা শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ধুনুচি নাচ ও আরতির আয়োজন করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন মন্দিরে ঘুরে পূজার আনন্দ উপভোগ করছেন দর্শনার্থীরা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/বি.বাড়িয়া/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!