গবেষণাকে শিল্পে রূপান্তর, কর্মসংস্থানে নতুন সম্ভাবনা
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবনকে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করে বাণিজ্যিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। তিনি বলেছেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে তরুণদের প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জন, উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) আয়োজিত দিনব্যাপী এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সুফিয়া কামাল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিনারে গবেষণালব্ধ জ্ঞানের বাস্তব প্রয়োগ, উদ্ভাবনের বাণিজ্যিকীকরণ, শিল্প-একাডেমিয়া অংশীদারত্ব এবং শিক্ষার্থীদের বহুমুখী ক্যারিয়ার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন গাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহিদুর রহমান এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. সফিউল ইসলাম আফ্রাদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বহিরাঙ্গন কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. ফারহানা ইয়াসমিন। এতে দেশের ৩০টি সরকারি ও বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
সেমিনারের প্রথম পর্বে ‘Connecting Research with Markets: Unlocking the Potential of GAU Innovations through Industry-Academia Partnerships’ শীর্ষক আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবনকে শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। দ্বিতীয় পর্বে ‘Beyond the Degree: Navigating Diverse Career Pathways for GAU Graduates’ শীর্ষক আলোচনায় প্রচলিত চাকরির বাইরে ক্যারিয়ার গঠন, উদ্যোক্তা হওয়া এবং দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে স্টার্টআপ খাতে অর্থায়ন এবং সৃজনশীল শিল্পের বিকাশের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্টার্টআপ খাতে ৫০০ কোটি টাকা এবং সৃজনশীল শিল্পে ৮০০ কোটি টাকা অর্থায়নের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে আইসিটিতে দক্ষ জনবল তৈরি, তৃতীয় ভাষা শেখা এবং তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবনকে শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং স্টার্টআপের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগ বাড়বে। তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তি ও প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা কাজে লাগিয়ে দেশ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবনকে শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে জাতীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে আত্মনির্ভরশীল ও উদ্ভাবনী প্রজন্ম গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
পরে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং ইউজিসি সদস্যের মতবিনিময় ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে গবেষণালব্ধ জ্ঞানের কার্যকর প্রয়োগ, উদ্ভাবনের বাণিজ্যিকীকরণ এবং বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ গবেষণার প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে। শিক্ষার্থীরাও তরুণদের জন্য সরকারি উদ্যোগ ও বিকল্প ক্যারিয়ারের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন ও মতামত তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে অতিথি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে ফটোসেশন অনুষ্ঠিত হয়। উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহিদুর রহমানের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে সেমিনারের সমাপ্তি হয়।