সিরাজগঞ্জে অধিক লাভের স্বপ্ন দেখছে যমুনা চরের বাদাম চাষীরা
বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় সিরাজগঞ্জ যমুনা চরের কৃষকরা আগেভাগেই বাদাম চাষে নেমেছে । যমুনা চরাঞ্চলে এবার কৃষকেরা অধিক লাভের আশায় বাদাম চাষ করছেন।
সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায় যে, সিরাজগঞ্জে চলতি বছর ৫ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে । ইতিমধ্যেই বাদাম বীজ বোপন শুরু হয়েছে । এ পর্যন্ত ৭৫০ হে ক্টর জমিতে বীজ বোপন শেষ হয়েছে । যমুনা চরের কাজিপুর, চৌহালি, শাহজাদপুর, বেলকুচি ও সদর উপজেলায় বাদাম চাষ হয়ে থাকে । এর মধ্যে চৌহালি ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশী বাদাম চাষ হয়ে থাকে ।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কাওয়াখোলার চর, চৌহালী উপজেলার খাসকাউলিয়া ঘোড়যান, হাটঘোরজান, ধিৎপুর চরসহ বেলকুচি উপজেলার বেলকুচি চর, চরবেল, ক্ষিদ্রচাপরী, আজগড়া, রতনকান্দীসহ বিভিন্ন চরে কৃষকরা এখন বাদাম চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন । চৌহালি উপজেলার বাঘুটিয়া চরের কৃষক আলীম জানায়, গতবারের চেয়ে এবার বাদাম চাষে বেশি লাভবান হবো।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বেলুটিয়া চরের বাদাম চাষি বিশা শেখ ও কৃষক আব্দুর রহমান জানান, এবারে তেমন বন্যা হয় নাই । বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথেই আমরা বাদাম চাষ শুরু করেছি । অনেকের জমিতে বাদামের গজিয়ে উঠেছে । চারাগুলো খুবই ভালো হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা এস এম নাসিম হোসেন জানান, এ বছর সদর উপজেলা যমুনার চরাঞ্চলে বাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ১ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে। তিনি বলেন এবছর বন্যার পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় কৃষকরা আগে ভাগেই বাদাম চাষ শুরু করেছেন । ইতিমধ্যেই অনেক জমিতে বাদামের চারা গজিয়ে উঠেছে ।
সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক এ কে এম মঞ্জুরে মওলা জনান, এ বছর জেলায় বাদাম ৫ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে । ইতিমধ্যেই বাদাম বীজ বোপন শুরু হয়েছে । তিনি বলেন যমুনা চরের কৃষকরা প্রতি বছরই বাদাম চাষ করে থাকে । এবছরও তারা বাদাম চাষ শুরু করেছেন । এ বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তাগন কৃষকদের নানা পরামর্শ দিচ্ছেন । আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এবার জেলায় বাদামের বাম্পার ফলনের আশা প্রকাশ করেন তিনি।