ঢাকা,  রোববার   ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

স্থানীয় নীতিমালায় জলবায়ু অভিযোজন সংযোজন বিষয়ক পরামর্শ সভা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২২:১৩, ৮ নভেম্বর ২০২৬
স্থানীয় নীতিমালায় জলবায়ু অভিযোজন সংযোজন বিষয়ক পরামর্শ সভা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

 

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত ও অরক্ষিত জনগোষ্ঠীর নিরাপদ বাসস্থান, স্যানিটেশন ও টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করতে স্থানীয় নীতিমালায় জলবায়ু অভিযোজন কৌশল সংযোজনের জোর দাবি জানানো হয়েছে।
রবিবার (৮ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোলস্থ রয়েল গ্লাস কনভেনশন হলরুমে ‘স্থানীয় নীতিমালায় জলবায়ু অভিযোজন সংযোজন’ শীর্ষক এক বিশেষ পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘উত্তরণ’-এর আয়োজনে এবং ‘হ্যাবিট্যাট ফর হিউম্যানিটি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ’-এর সহযোগিতায় ও অর্থায়নে এ সভায় সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম মিনির সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও পৌরসভার প্রশাসক শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত হোসেন, সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শাহিনুল ইসলাম, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান মনি ও উত্তরণ’-এর এড মনির উদ্দিন।
উত্তরণের ওভারসি ক্লাইমেট প্রকল্পের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মো. বিল্লাল হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন ‘ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’-এর শরিফুল ইসলাম, নারী নেত্রী ফরিদা আক্তার বিউটি, মহিলা পরিষদের জোৎস্ন্যা দত্ত, সাংবাদিক আসাদুজ্জামান, সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের আফজাল হোসেন এবং সাতক্ষীরা জেলা জলবায়ু বাস্তুচ্যুত মানুষের অধিকার ও উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি ফাতেমা বেগম ও সদস্যসচিব সোনিয়া খাতুন প্রমুখ। এ ছাড়া সভায় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, এনজিও প্রতিনিধি, এসএমজি প্রতিনিধি ও সুবিধাভোগীরা অংশ নেন। সভায় ‘সহনশীল ভবিষ্যৎ নির্মাণ: জলবায়ু অভিবাসী ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সার্বিক জলবায়ু অভিযোজন’ প্রকল্পের ওপর পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন হ্যাবিট্যাট ফর হিউম্যানিটি বাংলাদেশ-এর অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড আরবান বিশেষজ্ঞ তানজিয়া আঞ্জুম।
সভায় বক্তারা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের সুরক্ষায় এবং জলবায়ু অভিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে স্থানীয় নীতিমালায় অভিযোজন কৌশল দ্রুত সংযুক্ত করা সময়ের দাবি। 

এ সময় বক্তারা আরো বলেন, সাতক্ষীরা পৌরসভার ১, ২, ৩, ৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডসহ পৌরসভার ৪৭টি অনানুষ্ঠানিক বসতিতে বসবাসরত জলবায়ু অভিবাসী ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
উপকূলীয় অঞ্চলের ক্ষয়-ক্ষতি মোকাবিলায় স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বার্ষিক বাজেটে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চাহিদা ও জলবায়ু অভিযোজনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
 জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ এবং নিরাপদ আবাসন ও মৌলিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
 জলবায়ু অভিযোজনে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ও মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে এবং জেন্ডার-সংবেদনশীল নগর পরিকল্পনা গড়ে তুলতে পৌরসভা ও নাগরিক সমাজের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। জলাবদ্ধতা নিরসন, সুপেয় পানির সংকট দূরীকরণ এবং অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থার স্থায়ী সমাধান করতে হবে। জলবায়ু সহনশীল সাতক্ষীরা গড়তে ড্রেনেজ, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি এর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবি করেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/সাতক্ষীরা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!