ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

[ আন্তর্জাতিক ]

ফ্রান্স ও ভারতের আন্দোলন নিয়ে ফক্স নিউজের অনুসন্ধান

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:১৪, ২২ অক্টোবর ২০২৬
ফ্রান্স ও ভারতের আন্দোলন নিয়ে ফক্স নিউজের অনুসন্ধান
সংগৃহীত ছবি

ফ্রান্সে সাম্প্রতিক সহিংস বিক্ষোভ এবং ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা তরুণদের আন্দোলনের মধ্যে যোগসূত্র থাকার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ।

সংবাদমাধ্যমটির একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দেশের একাধিক বামপন্থী ও উগ্রপন্থী সংগঠনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক বিশ্বজুড়ে আন্দোলন সংগঠিত ও প্রচারে ভূমিকা রাখছে।

ফক্স নিউজের জ্যেষ্ঠ সম্পাদক আসরা নোমানির করা ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নয়টি দেশের ১০১টি সংগঠন নিয়ে গড়ে উঠেছে একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক। প্রতিবেদনে এই নেটওয়ার্ককে ‘রেড-গ্রীন প্রটেস্ট ইকোসিস্টেম’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ইউরোপের সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সঙ্গে এই নেটওয়ার্কের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

‘গ্লোবাল কেওস ইনকর্পোরেটেড গ্রোস টু ১০১ গ্রুপস’ শিরোনামের প্রতিবেদনে ফ্রান্সভিত্তিক সংগঠন ‘ইন্ডিয়ান অ্যালায়েন্স প্যারিস’ (আইএপি)-এর নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফক্স নিউজের দাবি, ফ্রান্স ও ভারতের আন্দোলনসংক্রান্ত প্রচার-বার্তার মধ্যে সংযোগ স্থাপনে সংগঠনটি ভূমিকা রাখছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনভিত্তিক প্রগতিশীল সংগঠন ‘দ্য পিপলস ফোরাম’-এর সঙ্গে আইএপির অংশীদারত্ব রয়েছে। তবে এসব সংগঠনের কথিত সমন্বিত কার্যক্রমের বিষয়ে প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

বিভিন্ন দেশের আন্দোলনকে একসূত্রে দেখার দাবি

প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘প্রোগ্রেসিভ ইন্টারন্যাশনাল’-এর একটি ব্রিফিংয়ের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। গত ১৬ অক্টোবর নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক নিবন্ধে সংস্থাটি ফ্রান্স, স্পেন, ভারত ও আলবেনিয়ার চলমান গণবিক্ষোভ নিয়ে আলোচনা করে। এসব আন্দোলন নিজেদের দাবি আদায়ে কতটা সুসংগঠিত শক্তিতে পরিণত হতে পারবে, সে প্রশ্নও তোলা হয় নিবন্ধে।

নিবন্ধে বলা হয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনগুলোকে সমর্থন দেওয়া এবং তাদের মধ্যে সংযোগ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে প্রোগ্রেসিভ ইন্টারন্যাশনাল।

ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, বিভিন্ন প্রচারমাধ্যম ও বামপন্থী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইউরোপের বিক্ষোভগুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচার ও সমর্থন পাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ‘ব্রেক থ্রু নিউজ’, ‘কোড পিঙ্ক’ এবং ‘পার্টি ফর সোশ্যালিজম অ্যান্ড লিবারেশন’-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়, সাংহাইয়ে বসবাসকারী মার্কিন বংশোদ্ভূত প্রযুক্তি উদ্যোক্তা নেভিল রয় সিংহাম এসব সংগঠনকে অর্থায়ন ও নীতিগত সহায়তা দিয়ে থাকেন।

এ বিষয়ে গত ১৪ অক্টোবর ব্রেক থ্রু নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিংহামের স্ত্রী এবং কোড পিঙ্কের সহপ্রতিষ্ঠাতা জোডি ইভানস ফ্রান্স, স্পেন ও ভারতের আন্দোলনগুলোর দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে এসব দেশের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে অন্য দেশগুলোর মানুষ কেন রাজপথে নামছে না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তথ্য পর্যবেক্ষণকারী অ্যাকাউন্ট ‘ডিসইনফো ল্যাব’-এর একটি পোস্টে প্যারিসভিত্তিক ভারতীয় বংশোদ্ভূত সাংবাদিক ও ইন্ডিয়ান অ্যালায়েন্স প্যারিসের সম্পাদক জয় ব্যানার্জিকে নিয়ে দাবি করা হয়েছে। পোস্টটিতে বলা হয়, তিনি ফরাসি শ্রমিক সংগঠন সিজিটির সাবেক প্রতিনিধি এবং ফরাসি কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে।

তবে ফ্রান্স ও ভারতের বিক্ষোভের মধ্যে কথিত আন্তর্জাতিক যোগসূত্র, বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বিত ভূমিকা এবং অর্থায়নসংক্রান্ত অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ প্রতিবেদনে কতটা উপস্থাপিত হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!