ঢাকা,  বুধবার   ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

[ আন্তর্জাতিক ]

বিশ্বের সেরা বন্দর চীনের সাংহাই, চট্টগ্রাম কতো?

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭:৩৫, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
বিশ্বের সেরা বন্দর চীনের সাংহাই, চট্টগ্রাম কতো?
ছবি সংগৃহীত

বিশ্বের ব্যস্ততম ১০০ কনটেইনার বন্দরের তালিকায় ৬৮তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দর। ২০২৫ সালে বন্দরটিতে ৩৪ লাখ ৯ হাজার কনটেইনার একক পণ্য ওঠানামা করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। তবে কনটেইনার পরিবহনে প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও বৈশ্বিক তালিকায় অবস্থানের উন্নতি হয়নি। অন্যদিকে, এশিয়ার বন্দরগুলো বিশ্ব বাণিজ্যে নিজেদের আধিপত্য আরও জোরালো করেছে।

লন্ডনভিত্তিক নৌপরিবহনবিষয়ক সাময়িকী লয়েডস লিস্টের ‘শীর্ষ ১০০ বন্দর ২০২৬’ প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের কনটেইনার পরিবহনের হিসাবের ভিত্তিতে এ অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের শীর্ষ ১০০ বন্দর গত বছর সম্মিলিতভাবে ৭৯ কোটি ২২ লাখ কনটেইনার একক পরিবহন করেছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। এ তালিকায় এশিয়ার বন্দরগুলোর অংশ প্রায় ৬৮ শতাংশ। চীনের বন্দরগুলো একাই সামগ্রিক পরিবহনের ৪০ শতাংশের বেশি পরিচালনা করেছে।

বিশ্বের ব্যস্ততম কনটেইনার বন্দর হিসেবে টানা ১৬তম বছরের মতো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে চীনের সাংহাই বন্দর। ২০২৫ সালে বন্দরটি প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ ৬২ হাজার কনটেইনার একক পরিবহন করেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর বন্দর, যার পরিবহনের পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি ৪৭ লাখ একক। তৃতীয় স্থানে চীনের নিংবো-ঝৌশান বন্দর, চতুর্থ শেনঝেন এবং পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে ছিংদাও বন্দর। শীর্ষ ছয়টি বন্দরের পাঁচটিই চীনে অবস্থিত।

তালিকার পরবর্তী অবস্থানগুলোতেও এশিয়ার প্রভাব স্পষ্ট। চীনের গুয়াংজু বন্দর ষষ্ঠ, দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান সপ্তম এবং চীনের থিয়ানচিন অষ্টম স্থানে রয়েছে। নবম অবস্থানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দর এবং দশম স্থানে মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্লাং। এশিয়ার বাইরে ইউরোপের রটারডাম ও অ্যান্টওয়ার্প-ব্রুজেস এবং আফ্রিকার তাঞ্জের মেড বন্দরও উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ভারতের মুন্দ্রা বন্দর, যার অবস্থান ২৫তম। শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দর ২৯তম এবং ভারতের জওহরলাল নেহরু বন্দর ৩০তম স্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের করাচি বন্দরের অবস্থান ৮৪তম। অর্থাৎ এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম এখনো প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে থাকলেও শীর্ষ ১০০ বন্দরের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির তুলনায় এর প্রবৃদ্ধি কম।

চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার। দেশের সমুদ্রপথে পরিবাহিত কনটেইনার পণ্যের প্রায় ৯৯ শতাংশ এ বন্দর দিয়ে ওঠানামা করে। ফলে বন্দরের সক্ষমতা, পণ্য খালাসের গতি ও পরিচালন দক্ষতার সঙ্গে আমদানি-রপ্তানির ব্যয় এবং সরবরাহব্যবস্থার কার্যকারিতা সরাসরি সম্পর্কিত।

বন্দরটির ভবিষ্যৎ সক্ষমতা বাড়াতে নতুন টার্মিনাল উন্নয়ন ও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। লয়েডস লিস্টের প্রতিবেদনে এপিএম টার্মিনালস, এমএসসি ও রেড সি গেটওয়ের বিনিয়োগকে চট্টগ্রাম বন্দরের ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের সম্ভাব্য অনুঘটক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বৈশ্বিক অবস্থানের উন্নতির জন্য শুধু কনটেইনার পরিবহন বাড়ানো যথেষ্ট নয়; দ্রুত পণ্য খালাস, শুল্ক কার্যক্রমের দক্ষতা, জ্বালানি সরবরাহ এবং বন্দরের অভ্যন্তরীণ পরিবহনব্যবস্থার উন্নয়নও জরুরি।

বিশ্বের শীর্ষ বন্দরগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে চট্টগ্রাম বন্দরের অবকাঠামো সম্প্রসারণের পাশাপাশি সেবার মান বাড়ানো প্রয়োজন। বন্দর পরিচালনায় দীর্ঘসূত্রতা কমানো এবং নতুন সক্ষমতার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা ও বৈদেশিক বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!