যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে প্রথম মুসলিম সদস্য আবদুল এল-সাইয়েদ
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে জয়ী হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ। এর মধ্য দিয়ে দেশটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে সিনেট সদস্য নির্বাচিত হওয়ার রেকর্ড গড়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করেন ৪২ বছর বয়সী এই রাজনীতিক।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর নির্বাচনী পূর্বাভাস এবং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) ফল ঘোষণায় এল-সাইয়েদের জয় নিশ্চিত হয়। তিনি মিশিগানের বিদায়ী ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন। আগামী জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হলে সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন তিনি।
নির্বাচনে এল-সাইয়েদের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ৬৩ বছর বয়সী রিপাবলিকান নেতা মাইক রজার্স। তিনি সাবেক কংগ্রেস সদস্য ও এফবিআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ রিপাবলিকান দলের শীর্ষ নেতাদের সমর্থন পেয়েছিলেন রজার্স। তবে শেষ পর্যন্ত এল-সাইয়েদের কাছে পরাজিত হন তিনি।
মিশিগানের এই নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতিতেও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল। কারণ, অবসর নিতে যাওয়া সিনেটর গ্যারি পিটার্সের আসনটি ধরে রাখার পাশাপাশি সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে ছিল ডেমোক্র্যাটরা।
নির্বাচনী প্রচারে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং রাজনীতিতে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রভাব নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দেন এল-সাইয়েদ। তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকারের অন্যতম ছিল ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ কর্মসূচি, যার মাধ্যমে সব নাগরিকের জন্য সরকারি অর্থায়নে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।
তবে প্রচারের সময় তাঁকে নানা বিতর্ক ও সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়। রিপাবলিকান নেতাদের কয়েকজন তাঁর মুসলিম পরিচয় এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে কথিত সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এল-সাইয়েদ। তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণও পাওয়া যায়নি বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসরায়েলে মার্কিন সামরিক সহায়তার বিরোধিতা এবং গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেও আলোচনায় ছিলেন তিনি। এসব অবস্থানের কারণে কিছু ভোটারের সমালোচনার মুখে পড়েন এল-সাইয়েদ।
মিসরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান আবদুল এল-সাইয়েদ পেশায় চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা। এর আগে তিনি ওয়েইন কাউন্টি এবং ডেট্রয়েটের স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৮ সালেও মিশিগানের গভর্নর পদে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি, তবে সে নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি।
এবারের নির্বাচনে জয়ী হয়ে শুধু মিশিগানের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগই পাননি, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসেও নতুন অধ্যায় যুক্ত করেছেন তিনি।