ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ আইন-আদালত ]
‘জঙ্গি’ নাটক সাজিয়ে হত্যা

নয় তরুণ হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ৮ আসামির শুনানি আজ

আদালত প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:০০, ৬ অক্টোবর ২০২৬
নয় তরুণ হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ৮ আসামির শুনানি আজ
ফাইল ছবি

ঢাকার কল্যাণপুরের জাহাজবাড়িতে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে নয় তরুণকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আট আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

গত ২১ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে তাদের শুনানি শেষ করে। ওই সময় রাষ্ট্রপক্ষ আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন জানায়। তবে আসামিপক্ষের ডিসচার্জ বা অব্যাহতির আবেদনের ওপর শুনানি এখনো বাকি রয়েছে।

এর আগে গত ২১ জুলাই রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। এ সময় প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মামুনুর রশিদ, তারেক আবদুল্লাহ, মঈনুল করিম ও শাইখ মাহদীসহ অন্য প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন। আসামিপক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী সুলতান মাহমুদ সিমন।

মামলার আট আসামির মধ্যে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহিদুল হক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান মিয়া গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। বাকি ছয় আসামি পলাতক।

পলাতক আসামিরা হলেন—দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, ডিএমপির তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান, তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার (সিটিটিসি) মো. মনিরুল ইসলাম, তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় এবং তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মো. আবদুল বাতেন।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই রাতে রাজধানীর কল্যাণপুরের জাহাজবাড়িতে কথিত জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালানো হয়। ‘অপারেশন স্টর্ম-২৬’ নামে ওই অভিযানে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ও সোয়াট সদস্যরা নয় তরুণকে গুলি করে হত্যা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাদের জঙ্গি হিসেবে প্রচার করা হয় বলেও দাবি রাষ্ট্রপক্ষের।

প্রসিকিউশনের দাবি, তদন্তে বিভিন্ন স্থান থেকে তরুণদের ধরে এনে জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত করে কল্যাণপুরের জাহাজবাড়িতে নিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠে এসেছে। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আট আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা করা হয়। গত ২৯ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনাসহ আট আসামির বিরুদ্ধে আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে ৮ মার্চ পলাতক ছয় আসামির পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!