ঢাকা,  বুধবার   ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

[ জাতীয় ]

অশ্রু-ভালোবাসায় দেবী দুর্গার বিদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯:০২, ২১ অক্টোবর ২০২৬
অশ্রু-ভালোবাসায় দেবী দুর্গার বিদায়
ছবি সংগৃহীত

ঢাকের বাদ্য, শঙ্খনাদ, উলুধ্বনি আর ভক্তদের জয়ধ্বনিতে মুখর রাজধানী ঢাকা। আনন্দ, উৎসব আর বিদায়ের বিষাদ মিশে বুধবার বিকেলে শুরু হয়েছে দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জনের বর্ণাঢ্য বিজয়া শোভাযাত্রা। পাঁচ দিনের পূজা শেষে দেবীকে বিদায় জানাতে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে হাজারো ভক্তের অংশগ্রহণে শুরু হয় এই যাত্রা।

বিকেল ৪টায় পলাশী মোড়ের ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়। রাজধানীর বিভিন্ন মণ্ডপের প্রতিমা নিয়ে জগন্নাথ হল, দোয়েল চত্বর, গুলিস্তান মোড়, নবাবপুর সড়ক ও রায়সাহেব বাজার হয়ে শোভাযাত্রাটি বুড়িগঙ্গার ওয়াইজঘাটে পৌঁছায়। রাত ১০টার মধ্যে বিসর্জন কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদের মোট ১১টি ঘাট নির্ধারণ করা হয়েছে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়ায় মর্ত্যে আগমনের পর পাঁচ দিন পূজা গ্রহণ করে বিজয়া দশমীতে কৈলাসে ফিরে যান দেবী দুর্গা। অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার প্রতীক এই উৎসবের শেষ দিনে তাই একদিকে বিজয়ের আনন্দ, অন্যদিকে প্রিয় দেবীকে বিদায়ের বেদনা। সকালে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে দশমীর বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টায় দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শাস্ত্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। পরে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলে সিঁদুর খেলা। সধবা নারীরা দেবীর চরণে সিঁদুর নিবেদন করে একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।

বিজয়া দশমী উপলক্ষে বঙ্গভবনেও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পূজা কমিটির প্রায় ১০০ সদস্য এতে অংশ নেন। মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশিষ কুমার বিশ্বাস সাধন বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রেখে সৌহার্দ্যপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই তাদের প্রত্যাশা।

দুর্গোৎসব ঘিরে ধর্মীয় আয়োজনের পাশাপাশি ছিল মানবিক কর্মসূচিও। ঢাকেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গণে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। প্রায় ৫০ বছর ধরে চলে আসা রক্তদান কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের ভাষ্য, নবমীর রাতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়েছে।

বিদায়ের মুহূর্তে ভক্তদের চোখেমুখে ছিল আবেগ। লালবাগের বাসিন্দা শ্রাবণী দাস বলেন, এবার আগের বছরের চেয়ে বেশি আনন্দ করেছেন। তবে মা’কে বিদায় জানানোর সময় মন খারাপ হচ্ছে। আবার এক বছর পর দেবীর সঙ্গে দেখা হবে—এই প্রত্যাশাই তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছে।

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের মূল প্রতিমাটি অবশ্য বিসর্জন দেওয়া হয় না। ঐতিহ্য অনুযায়ী, প্রতিমাটি সংরক্ষণ করা হয় পরবর্তী বছরের পূজা পর্যন্ত। এবার প্রতীকী বিসর্জন হিসেবে সপ্তমীতে প্রতিষ্ঠিত কলাবউ বিসর্জন দেওয়া হবে।

এ বছর ঢাকা মহানগরে ২৫৮টিসহ সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। তবে উৎসবের স্মৃতি, সম্প্রীতির বার্তা আর আগামী বছরের প্রতীক্ষা নিয়েই ঘরে ফিরছেন ভক্তরা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআই
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!