ঢাকা,  রোববার   ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

[ ভ্রমণ ]

পর্যটকদের জন্য খুলছে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭:০৯, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
পর্যটকদের জন্য খুলছে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন
ছবি সংগৃহীত

আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। তবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও দ্বীপের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে পর্যটক যাতায়াতে থাকছে নির্দিষ্ট সীমা ও নানা বিধিনিষেধ। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবেন। প্রত্যেক পর্যটককে দিতে হবে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখা থেকে জারি করা এক চিঠিতে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়। গত ১২ অক্টোবর পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত আন্ত:মন্ত্রণালয় সভায় পর্যটক যাতায়াত ও দ্বীপের পরিবেশ সুরক্ষায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

চিঠি অনুযায়ী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তর সেন্টমার্টিনগামী নৌযান চলাচলের অনুমতি দিতে পারবে না। পর্যটকবাহী অনুমোদিত জাহাজ কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে চলাচল করবে। ফলে পর্যটকদের দ্বীপে যেতে নির্ধারিত জাহাজ ও অনুমোদিত নৌপথ ব্যবহার করতে হবে।

পরিবেশ সংরক্ষণ ফি আদায়ের বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরকে ‘পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০১৬’-এর বিধি ২৬ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনাগুলোও বহাল রাখা হয়েছে। এসব নিয়ম বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে বঙ্গোপসাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ। স্বচ্ছ পানি, প্রবাল, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে প্রতিবছর শীত মৌসুমে দেশি পর্যটকদের কাছে দ্বীপটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তবে অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ, প্লাস্টিক বর্জ্য, অপরিকল্পিত স্থাপনা এবং সামুদ্রিক পরিবেশের ওপর মানুষের কর্মকাণ্ডের প্রভাব দ্বীপটির জন্য দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগের কারণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাল ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন নিশ্চিত করা জরুরি। শুধু নিয়ম জারি করলেই হবে না, নিয়মিত তদারকি ও আইন প্রয়োগও প্রয়োজন।

সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পর্যটকদের জন্য দ্বীপ খুললেও পরিবেশ সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। তাই সেন্টমার্টিন ভ্রমণে যাওয়ার আগে অনুমোদিত জাহাজ, পর্যটকসংখ্যার সীমা ও পরিবেশ সংরক্ষণ ফি-সংক্রান্ত নির্দেশনা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!