আখতারুজ্জামানের মুক্তি দাবিতে জামায়াতের বিক্ষোভ
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার বিকেলে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের উদ্যোগে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় এ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
দলটির দাবি, বিমানবন্দরে যাত্রী ও প্রবাসীদের হয়রানি-ভোগান্তির প্রতিবাদ করায় মেজর আখতারুজ্জামানকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তিও দাবি করেছে জামায়াত।
এক বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি দাবি করেন, ১ অক্টোবর পবিত্র ওমরা পালন শেষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফেরার পর অন্য যাত্রীদের মতো আখতারুজ্জামানও হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হন।
.png)
গোলাম পরওয়ারের দাবি, তদন্তের আগেই উদ্দেশ্যমূলকভাবে মামলা করে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিমানবন্দরে যাত্রীদের অপ্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ, দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় রাখা, অসম্মানজনক আচরণ ও লাগেজ নিয়ে হয়রানির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি যাত্রী হয়রানি বন্ধ, সেবার মান নিশ্চিত এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
শুক্রবার বিকেলে আখতারুজ্জামানের মুক্তির দাবিতে উত্তরার জসিম উদ্দিন সড়ক মোড় থেকে মিছিল বের করে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াত। মিছিলটি বিমানবন্দর সড়কে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত, উত্তরা মডেল থানার আমির ইব্রাহীম খলীল, উত্তরা পশ্চিম থানা আমির মাজহারুল ইসলাম, উত্তরা পূর্ব থানা আমির মাহফুজুর রহমানসহ স্থানীয় নেতারা।
গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়ে মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিন বলেন, সামান্য কথা-কাটাকাটির ঘটনায় কোনো দায়িত্বশীল সংস্থার পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ না করে মামলা করে দ্রুত গ্রেপ্তার করা দায়িত্বশীল আচরণ নয়।
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ওমরা শেষে দেশে ফেরার পর ট্রলি ও সঙ্গে আনা জমজমের পানি নিয়ে আখতারুজ্জামানের সঙ্গে বিমানবন্দর কর্মকর্তাদের কথা-কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। এ সময় তার সঙ্গে জামায়াতের ৩৪ জন সংসদ সদস্যও ছিলেন বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিওতে বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তার সঙ্গে তাকে উচ্চবাচ্য করতে দেখা যায়।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এ সময় আখতারুজ্জামান কর্মকর্তাদের পদায়ন নিয়ে মন্তব্য করেন এবং তাদের ঘাড় ধরে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন। নিরাপত্তাকর্মীদের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে কর্মকর্তাদের মারধরের অভিযোগও করা হয়েছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে (ইডি) হুমকি এবং নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব।
মামলাটির পর আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালত তাকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠান। তবে মামলায় করা অভিযোগগুলো তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সেগুলো অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে।
রাজনৈতিক জীবনে আখতারুজ্জামান ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে বিএনপির মনোনয়নে কিশোরগঞ্জ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে তিনি দল থেকে একাধিকবার বহিষ্কৃত হন। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে বিএনপিতে ফিরে মনোনয়ন পেলেও ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ার পর আবারও দল থেকে বহিষ্কৃত হন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।