পাথরঘাটায় ভাতিজার বুকে ছুরি, ১১দিন পর মৃত্যু
বরগুনার পাথরঘাটায় তারাবিহ নামাজে সুরা ভুল হওয়া নিয়ে তর্কের জেরে ভাতিজার বুকে ছুরি বসিয়ে দেন চাচা। এ ঘটনার ১১ দিন পর ভাতিজা মারা গেছেন। নিহত হোসেন পাথরঘাটার কালমেঘা ইউপির আব্দুর রাজ্জাক শিকদারের ছেলে।
শনিবার রাতে হোসেন শিকদারের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে ২৬ রমজান উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের কালিবাড়ি নাজেম আলী হাওলাদার বাড়ি জামে মসজিদের ইমামের নামাজে সুরা ভুল হওয়া নিয়ে চাচা-ভাতিজার মধ্যে তর্ক হয। পরে ২৯ রমজান নামাজে শেষে বাড়িতে যাওয়ার পথে ভাতিজা হোসেন শিকদারকে চাচা মোতালেব শিকদার বুকে চাকু ঢুকিয়ে দেয়।
জানা যায়, ২৯ রমজান ভাতিজাকে খুন করার উদ্দ্যেশ্যে তারাবিহ নামাজে পকেটে চাকু নিয়ে নামাজ পড়তে আসে চাচা মোতালেব সিকদার। তারাবিহ শেষে ভাতিজা হোসেন সিকদার মসজিদের বাইরে নামার সঙ্গে সঙ্গে পকেটে থাকা চাকু উঠিয়ে ভাতিজার বুকে কয়েকবার বসিয়ে দেয় চাচা। গুরুতর অবস্থায় প্রথমে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে যায় হোসেনকে। সেখান থেকে অবস্থার অবনতি দেখে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। ১৯ এপ্রিল শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে মারা যান তিনি।
এদিকে মারামারির ঘটনায় ১০ এপ্রিল হোসেনের ভাই হাসান শিকদার বাদী হয়ে পাথরঘাটা থানায় মারামারির মামলা দায়ের করেন। পরিবারের অভিযোগ, তারাবির নামাজের সুরা ভুল হওয়াা নিয়ে তর্ক হলেও জমিজমা নিয়ে চাচাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিলো। সেই বিরোধের জন্যই চাচা ভাতিজাকে খুন করে।
ভাই হাসান শিকদার বলেন, আমার ভাইকে খুন করা হয়েছে। আমরা আইনের আশ্রয় নিয়েছি। ঈদের ছুটির পর আসামিরা আদালত থেকে জামিনে আসে। আমার ভাইয়ের মৃত্যুর পর আসামিরা হুমকি দিচ্ছে।
পাথরঘাটা থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে তাদের সঙ্গ পূর্ব শত্রুতা রয়েছে। ১০ এপ্রিল একটি মারামারির মামলা হয়েছে। ওই আঘাতের কারণে মৃত্যু হলে মামলাটি হত্যা মামলা হবে।