লালপুরে তরুণীকে গণধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ, গ্রেপ্তার ৩
নাটোরের লালপুর থানায় অপহরণ, গণধর্ষণ, পর্নোগ্রাফি আইন ও চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার ভোরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ অক্টোবর দুপুরে নাটোরের লালপুরের গোপালপুর রেলগেট এলাকা থেকে ভিকটিম (২৪)-কে ইজিবাইকযোগে নিয়ে যাওয়া হয় জোতদৈবকী এলাকার ৩ নম্বর আসামি শাকিল হোসেনের বাড়িতে। সেখানে নিয়ে ভিকটিমকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ১ নম্বর আসামি আশিক জামান (২০) ধর্ষণ করে। এ সময় গোপনে ধর্ষণের ভিডিও চিত্র মোবাইল ফোনে ধারণ করে আসামি শাকিল (২৩)। পরবর্তীতে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে শাকিল এবং পরবর্তীতে কাজল ইসলাম (১৯) ভিকটিমাকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পর্যায়ক্রমে গণধর্ষণ করে।
ঘটনার শেষ পর্যায়ে মেহেদী (৪ নম্বর আসামি) নামে আরেকজন অভিযুক্ত ঘরে প্রবেশ করে নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে ভিকটিমের কাছে ৬০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করায় ভিকটিমের ব্যবহৃত স্মার্টফোনটি ছিনিয়ে নেয় অভিযুক্তরা। পরবর্তীতে ৪ অক্টোবর আসামি আশিক ভিকটিমকে ফোন করে আরও ২০ হাজার টাকা না দিলে ধারণকৃত পর্নোগ্রাফি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।
.png)
এ ঘটনায় ভিকটিম স্থানীয়দের পরামর্শে লালপুর থানায় অভিযোগ জানালে পুলিশ অভিযান শুরু করে।
পরে অভিযানে আজ ভোর ৪টা ২০ মিনিটে উত্তর লালপুর গ্রাম থেকে মূল অভিযুক্ত আশিক জামান, কাজল ইসলাম এবং শাকিল ইসলাম বাদলকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে তারা অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
পুলিশ রেকর্ড যাচাই করে জানা গেছে, ২ নম্বর আসামি কাজল ইসলামের বিরুদ্ধে পূর্বেও একটি চুরি ও ভাঙচুরের মামলা (জিআর নং-২৪৪/২৪) এবং ৩ নম্বর আসামি শাকিলের বিরুদ্ধে আদালতে একটি হত্যাচেষ্টা ও সহিংসতার মামলা (সিআর নং-৪৫৭সি/২৪) বিচারাধীন রয়েছে।
লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার আসামিদের নাটোর আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। মামলার অন্য অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।