ফুডপান্ডার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম রেস্তোরাঁ মালিকদের কঠোর কর্মসূচি
প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যবসায়িক সহযোগীদের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ বেশ পুরোনো। এমন অভিযোগে ফুডপান্ডার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দা আমবারীন ও প্রতিষ্ঠানের একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে; জারি হয়েছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও। এবার প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আকর্ষণীয় প্রলোভন দেখিয়ে রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের সর্বস্ব লুটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের দাবি, ফুডপান্ডা একটি ‘মুখোশধারী ভণ্ড’ প্রতিষ্ঠান।
চট্টগ্রামের রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী তানভীর সোহেল আক্ষেপ করে বলেন, ‘নানা প্রলোভন দেখিয়ে ডেলিভারি পার্টনার হিসেবে রেস্তোরাঁগুলোকে যুক্ত করে ফুডপান্ডা। এরপর শুরু হয় শোষণের খড়্গ। এক হাজার টাকার অর্ডারে কমিশনসহ বিভিন্ন অজুহাতে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত কেটে নেওয়া হয়, যার মধ্যে ৩৫০ টাকাই ফুডপান্ডার ডেলিভারি কমিশন। এক হাজার টাকার খাবার বিক্রি করে একজন রেস্তোরাঁ মালিক কত টাকা লাভ করবেন? ফুডপান্ডার মাত্রাতিরিক্ত কমিশনের চাপে চট্টগ্রামের বহু রেস্তোরাঁ ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে, বাকিগুলোও বন্ধ হওয়ার উপক্রম।’
আবুল কালাম নামে অপর এক ব্যবসায়ী জানান, নির্ধারিত কমিশনের বাইরে বিজ্ঞাপন, প্রিমিয়াম প্লেসমেন্ট ও নানা ছাড় কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়। ফলে বিক্রি বাড়লেও লোকসান গুনতে হয় রেস্তোরাঁ মালিকদের। এ ছাড়া অর্থ পরিশোধ, বিভিন্ন খাতে অর্থ কর্তন ও প্রকৃত পাওনার হিসাবে ফুডপান্ডার কোনো স্বচ্ছতা নেই।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি রেস্তোরাঁ মালিকদের অভিযোগ, ফুডপান্ডাকে কমিশন ও চার্জ দেওয়ার পর খাবার তৈরির উপকরণ, কর্মীদের বেতন, প্যাকেজিং এবং দোকান পরিচালনার খরচ মিটিয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ছেন উদ্যোক্তারা।
এমন পরিস্থিতিতে কমিশন কমানো, অতিরিক্ত চার্জের স্বচ্ছ হিসাব নিশ্চিত করা এবং তথ্য শেয়ারের দাবি জানিয়ে চট্টগ্রামে ফুডপান্ডার কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি, চট্টগ্রাম মহানগর শাখা।
গত ১০ অক্টোবর চট্টগ্রামের মুরাদপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রেস্তোরাঁ মালিকেরা দাবি বাস্তবায়নে সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দেন। তাঁদের দাবির মধ্যে রয়েছে কমিশন কাঠামো পুনর্বিবেচনা, অতিরিক্ত চার্জের স্বচ্ছ হিসাব, অর্ডার বাতিলের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং রেস্তোরাঁর আর্থিক স্বার্থ সুরক্ষা করা।
রাইডারদের ওপরও শোষণের অভিযোগ
শুধু ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করেই ক্ষান্ত হয়নি প্রতিষ্ঠানটি; ডেলিভারি রাইডারদের কাছ থেকেও নানা অজুহাতে অর্থ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রাইডার বলেন, ‘সময় বাঁচাতে আমাদের মোটরসাইকেলের বদলে সাইকেল দেওয়া হয়েছে। কোম্পানির ভাবমূর্তি রক্ষা করতে যানজটের মধ্যে সাইকেল কাঁধে নিয়েও নির্দিষ্ট সময়ে খাবার পৌঁছে দিই। সামান্য কয়েক মিনিট দেরি হলেই রাইডারদের ওপর ‘লেট চার্জ’ আরোপ করে ফুডপান্ডা। গ্রাহকের কাছ থেকে ডেলিভারি চার্জ নেওয়ার পরও রাইডারদের কাছ থেকে টাকা কাটা অত্যন্ত অমানবিক।’