ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

লক্ষ্মীপুরে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে তিন দপ্তরের প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:২৭, ২০ অক্টোবর ২০২৬
লক্ষ্মীপুরে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে তিন দপ্তরের প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
প্রতীকি ছবি

লক্ষ্মীপুরে ঘুষ গ্রহণ, সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী বিলকিস আক্তার এবং লক্ষ্মীপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার হোসেনকে বদলি করা হয়েছে।

ঘটনাগুলোর মধ্যে পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিনের ঘুষ দাবির কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনা হয়। অন্যদিকে, পৌরসভার সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ল্যাট্রিন বিতরণ ও ওয়াশ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

ঘুষ দাবির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বরখাস্ত

লক্ষ্মীপুর পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে বকেয়া বিল ও মালামালসংক্রান্ত ফাইল অনুমোদনের বিনিময়ে এক ঠিকাদারের কাছে বিপুল অঙ্কের ঘুষ দাবির অভিযোগ ওঠে। এ সময়ের কথোপকথনের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাকে ‘২ কোটি টাকার নিচে নেব না’ বলতে শোনা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সমালোচনার মুখে গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি তদন্তে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

পৌরসভার প্রকল্পে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ

লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মজুপুর এলাকায় ৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

এ ছাড়া প্রকল্পের সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার হোসেনকে তলব করে।

এসব ঘটনার পর গত ১৫ অক্টোবর পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে খাগড়াছড়ি পৌরসভায় পদায়ন করে।

ল্যাট্রিন বিতরণ ও ওয়াশ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিদায়ী নির্বাহী প্রকৌশলী বিলকিস আক্তারের বিরুদ্ধেও একাধিক প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তার দায়িত্বকালে ৯ হাজার ৩৮৯টি টুইন পিট ল্যাট্রিন বিতরণ এবং ৫৬ কোটি টাকার ওয়াশ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ করা হয়।

এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৮ থেকে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ওয়াশব্লক নির্মাণকাজে অনিয়ম ও তদারকিতে অবহেলার অভিযোগ ওঠে। এর আগে গাজীপুরে দায়িত্ব পালনের সময়ও তার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ ছিল বলে জানা গেছে।

টুইন পিট ল্যাট্রিন বিতরণ কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা বাড়ে। পরে গত ২৪ আগস্ট তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে পদায়ন করা হয়।

তিনটি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়গুলোর পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/লক্ষ্মীপুর/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!