ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
কোটি টাকার ক্ষতি

লক্ষ্মীপুরে যুবকের দেওয়া আগুনে পুড়ল ১১ পরিবারের ঘর 

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:১৩, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
লক্ষ্মীপুরে যুবকের দেওয়া আগুনে পুড়ল ১১ পরিবারের ঘর 
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে পারিবারিক বিরোধের জেরে এক যুবকের দেওয়া আগুনে ১১টি পরিবারের বসতঘর ও রান্নাঘর পুড়ে গেছে। ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। আগুনে ঘরবাড়ি ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হারিয়ে পরিবারগুলো এখন অনেকটাই নিঃস্ব।

রোববার ভোররাতে রায়পুর উপজেলার বাসাবাড়ি এলাকার আশক আলী ব্যাপারী বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদকাসক্ত যুবক সোহেল হোসেন পারিবারিক বিরোধের জেরে নিজের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে সেই আগুন মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশও প্রাথমিকভাবে নিজ ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাতের কথা জানিয়েছে।

Advertisement

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোহেল হোসেন এলাকায় মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত। মাদকের টাকা জোগাড় করা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর প্রায়ই বিরোধ হতো। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে তিনি নিজের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের বসতঘরগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একে একে ১১টি পরিবারের বসতঘর ও রান্নাঘর আগুনে পুড়ে যায়। আগুনে ঘরবাড়ির পাশাপাশি আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, রান্নার সরঞ্জামসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিসপত্র পুড়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক পরিবার জানান, আগুনে তাঁদের দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পুড়ে গেছে। এখন মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও নেই। স্বজন ও প্রতিবেশীদের সহায়তায় কোনোভাবে দিন কাটাতে হচ্ছে তাঁদের।

খবর পেয়ে রায়পুর ও লক্ষ্মীপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। তবে এর আগেই আগুনে ১১টি পরিবারের ঘরবাড়ি পুড়ে যায়।

এদিকে আগুন দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর স্থানীয় লোকজন সোহেল হোসেনকে আটক করে গণপিটুনি দেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। গণপিটুনিতে সোহেল আহত হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, স্থানীয়রা সোহেলকে গণপিটুনি দেওয়ার পর পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

লক্ষ্মীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রনজিত কুমার দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আগুনে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণের কাজ চলছে। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, আগুনের ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই ঘর থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বের করার সুযোগ পাননি। ফলে এক রাতের আগুনে ১১টি পরিবার তাঁদের ঘরবাড়ি ও সহায়-সম্বল হারিয়েছেন।

এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগের পাশাপাশি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!