রংপুরে বিসর্জন না দিয়ে মন্দিরে ফেরানো হলো প্রতিমা
রংপুরে জমির মালিকানা ও মন্দির দখলকে কেন্দ্র করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুই পক্ষের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র বিরোধ। এর জেরে বিজয়া দশমী পেরিয়ে গেলেও রংপুর নগরীতে একটি মণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন থেমে আছে। ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় সড়ক অবরোধ এবং পুলিশ প্রশাসনের গভীর রাত পর্যন্ত দফায় দফায় বৈঠকের পরও ঘটনার কোনো সুরাহা মেলেনি।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত প্রতিমা বিসর্জন না দিয়ে শোভাযাত্রা থেকে প্রতিমা পুনরায় মন্দিরে এনে রেখেছেন পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যরা। মেট্রোপলিটন কোতয়ালি থানার ওসি তদন্ত মিলন চ্যাটার্জি বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) নগরীর ঠিকাদারপাড়ায় সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত প্রতিমা বিসর্জন না দিয়ে সড়ক অবরোধের খবর পাওয়া গেছে। গভীর রাত পর্যন্ত পুলিশ দুই পক্ষকে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করে।
স্থানীয়রা জানায়, ২০০৭ সাল থেকে প্রতিবছর স্থানীয় দশরথের তিন শতক জমিতে মন্দির স্থাপন করে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। চলতি বছর পূজা উদযাপন কমিটি দুর্গাপূজার পর কালি প্রতিমাসহ অন্য প্রতিমা বসানোর মাধ্যমে স্থায়ী মন্দির স্থাপনের প্রস্তুতি নেয়। বুধবার প্রতিমার বিসর্জনের সময়ে জমির মালিক দশরথ সব প্রতিমা নামিয়ে মন্দির খালি করার দাবি জানালে দশরথ ও পূজা উদযাপন কমিটির মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরপর প্রতিমা বিসর্জন না দিয়ে স্থায়ী মন্দির স্থাপনের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে পূজা উদযাপন কমিটিসহ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি গ্রুপ। অপরপক্ষে নিজের জমি উদ্ধারের জন্য সব প্রতিমা সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে জমির মালিক দশরথ তার লোকজন রাস্তার অপরপাশে অবস্থান নেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসন গভীর রাত পর্যন্ত উভয় পক্ষকে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।
রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালি থানার ওসি তদন্ত মিলন চ্যাটার্জি বৃহস্পতিবার সকালে বলেন, উভয় পক্ষের মধ্যে সিদ্ধান্তহীনতা ও অচলাবস্থা এখনো আছে। যে পক্ষ পূজা করেছে তারা প্রতিমা বিসর্জন দিতে চায়, কিন্তু মন্দির খালি করতে চায় না। মন্দিরের দখল ধরে রাখতে চায়। আর জমির মালিকপক্ষের দাবি মন্দির খালি করে দিয়ে মন্দিরের সব প্রতিমা নামিয়ে নিতে হবে। আমরা উভয় পক্ষকে নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত সমাধানের চেষ্টা করছি। এখনও প্রতিমা বিসর্জন হয়নি।