জমি নিয়ে বিরোধ, ছোট ভাইয়ের বসতভিটা বাঁশের বেড়ায় অবরুদ্ধ
যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামে পৈতৃক জমির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে ছোট ভাইয়ের বসতভিটার একাংশ বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখার অভিযোগ উঠেছে বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, মশিয়ার রহমানের বসতঘরের অর্ধেক অংশ বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে রেখেছেন তার বড় ভাই আতিয়ার রহমান।
ভুক্তভোগী মশিয়ার রহমানের দাবি, তাদের পৈতৃক সম্পত্তির পরিমাণ ৮ শতক। এর মধ্যে বোনদের অংশ তিনি কিনে নিয়েছেন। অন্যদিকে বড় ভাই আতিয়ার রহমানের নামে রয়েছে ১ দশমিক ৩৪ শতক জমি। বাবার অন্য জায়গায় আলাদা বসতভিটা থাকায় আতিয়ার সেখানে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছেন।
মশিয়ার রহমান বলেন, বড় ভাইয়ের অংশটুকু তিনি কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু স্থানীয় বিএনপি নেতা আমান উল্লাহর ইন্ধনে আতিয়ার জমি বিক্রি না করে উল্টো তার বসতঘরের একাংশ বাঁশের বেড়া দিয়ে আটকে দিয়েছেন। বিষয়টি সমাধানে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও আতিয়ার নির্ধারিত বৈঠকে উপস্থিত হননি।
তিনি আরও বলেন, বড় ভাইয়ের আক্রমণাত্মক আচরণের আশঙ্কায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সংঘাতে জড়াননি।
এ বিষয়ে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বরকত আলী এবং স্থানীয় বাসিন্দা মাজেদুল, মোখলেছ উদ্দিন খালেদ ও মোমেহউদ্দিন মুকুল জানান, বিরোধটি মীমাংসার জন্য একাধিকবার সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আতিয়ার রহমান বৈঠকে বসার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে উপস্থিত হননি বলে তাদের অভিযোগ। স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার প্রভাবে তিনি এমন আচরণ করছেন বলেও দাবি করেন তারা।
অন্যদিকে আতিয়ার রহমানের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার স্ত্রী আরিজনা বেগম বলেন, তারাও বিরোধটির শান্তিপূর্ণ সমাধান চান। বাড়ির পেছনে থাকা একটি পুকুরের জায়গার সঙ্গে বিরোধপূর্ণ জমি বিনিময় করা গেলে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা পারিবারিক এ বিরোধ নিরসনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে অবরুদ্ধ বসতভিটার স্বাভাবিক চলাচল ও ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।