মকবুল হত্যা মামলায় সুলতান মনসুরসহ দুজন গ্রেপ্তার
রাজধানীর পল্টনে বিএনপিকর্মী মকবুল হোসেন হত্যা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ ও সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহর ছেলে সেরনিয়াবাত মঈনউদ্দিন আহাম্মেদ আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (১৮ অক্টোবর) পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক মো. তোফাজ্জল হোসেন তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানির জন্য কারাগার থেকে দুজনকে আদালতে হাজির করা হয়।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর সুমন আসামিদের হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে তাদের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জানান।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীনসহ অন্য আইনজীবীরা আবেদনের বিরোধিতা করে শুনানি করেন।
এ সময় আদালতের অনুমতি নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ। তিনি দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনের সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দেশের বাইরে অবস্থান করছিলেন। কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকলে দেশে ফিরে আসতেন না।
সুলতান মনসুর আরও বলেন, মামলার ঘটনাটি ২০২২ সালের। সে সময় তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে নয়, গণফোরামের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে তিনি আদালতের কাছে আইনি সহায়তা চান।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত সুলতান মনসুর ও মঈনউদ্দিন আব্দুল্লাহকে মকবুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
যেভাবে মকবুল হত্যা মামলা
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর এক দফা দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। ওই কর্মসূচির আগে ৭ ডিসেম্বর তৎকালীন ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ, মেহেদী হাসান ও বিপ্লব কুমারের নেতৃত্বে বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়।
অভিযোগে বলা হয়, অভিযানের সময় দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের পাশাপাশি আশপাশে অবস্থানরত বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান বিএনপিকর্মী মকবুল হোসেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পল্টন মডেল থানায় এ ঘটনায় মামলা করেন মাহফুজুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫৬ জনকে আসামি করা হয়।
এদিকে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর কানাডা থেকে দেশে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন এলাকা থেকে সুলতান মনসুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন যুবদল নেতা শামীম হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
অন্যদিকে একই বছরের ২৬ অক্টোবর রাজধানীর গুলশান-২ এলাকা থেকে সেরনিয়াবাত মঈনউদ্দিন আহাম্মেদ আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এরপর থেকে তিনিও কারাগারে রয়েছেন।