ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ ক্যাম্পাস ]

'সুযোগ-সুবিধা শূন্য, ফি আদায় দ্বিগুণ': জাবি স্কুল ও কলেজে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

জাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:২৯, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
'সুযোগ-সুবিধা শূন্য, ফি আদায় দ্বিগুণ': জাবি স্কুল ও কলেজে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক ফি আদায়ের প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল ও কলেজের সামনে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন ও সমাবেশ।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল ও কলেজে উন্নয়ন ফি আদায় করা হলেও শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ার অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা স্কুল ও কলেজ ভবনের সামনে প্রতিবাদ জানাতে থাকে।

Advertisement

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দ্বিতীয় বর্ষে মাসিক পরীক্ষা না থাকলেও ৫০০ টাকা মাসিক পরীক্ষা ফি নেওয়া হচ্ছে। কম্পিউটার ব্যবহারের কোনো প্রশিক্ষণ বা সুযোগ না থাকলেও বেতনের সঙ্গে ৫০ টাকা কম্পিউটার ফি নেওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত ৬৫০ টাকা কম্পিউটার ফি নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া টেস্টিমোনিয়াল বাবদ দুইবার ২০০ টাকা করে, অর্থাৎ মোট ৪০০ টাকা এবং পরিবহন বাবদ ৩০০ টাকা ফি নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি শিক্ষার্থীদের। তাদের অভিযোগ, একাদশ শ্রেণিতেও এসবের কয়েকটি খাতে ফি নেওয়া হয়েছিল।

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, মিলাদ, সিলেবাস, ম্যাগাজিন, ফি-বই, লাইব্রেরি, ল্যাব ডেভেলপমেন্ট, রেঞ্জার, রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন খাতে ফি নেওয়া হলেও এসবের বিপরীতে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও ৩৫০ টাকা ল্যাব ডেভেলপমেন্ট ফি নেওয়া হচ্ছে বলে তাঁরা জানান। দীর্ঘদিন ল্যাব পরিত্যক্ত থাকা, কম্পিউটার রুম বা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকা এবং লাইব্রেরি বন্ধ থাকার পরও সংশ্লিষ্ট খাতে ফি আদায় করা হচ্ছে বলে দাবি তাদের।

এসব বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা বলায় এক শিক্ষার্থীকে শিক্ষকদের কক্ষে নিয়ে গিয়ে ভিডিও মুছে ফেলতে বাধ্য করা এবং ছাত্রত্ব বাতিলের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। 

ভুক্তভোগী দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিয়ান বলেন, 'বেতনের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে যে অতিরিক্ত ফি নেওয়া হচ্ছে, তার অনেকগুলো আগেই প্রথম বর্ষে পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু একই ধরনের ফি আবারও নেওয়া হচ্ছে। অথচ এসব ফি দেওয়ার বিপরীতে যে সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা, তার অনেকটাই শিক্ষার্থীরা পাচ্ছেন না।'

তিনি বলেন, এসব বিষয় নিয়ে একটি ভিডিওতে কথা বলার পর ক্লাস চলাকালে তাকে শিক্ষকদের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় উচ্চতর গণিতের 

শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান ও সমাজকর্মের মো. শহিদুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও ছাত্রত্ব বাতিলের হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

একই শ্রেণির শিক্ষার্থী ওভী বলেন, ফি পরিশোধের সময়সীমা ও বিভিন্ন ফি নিয়ে শিক্ষার্থীরা আগে থেকেই কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছিলেন। তখন তাদের নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে দিতে বলা হয় এবং পরবর্তীতে প্রয়োজন হলে সমন্বয়ের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামার পর কর্তৃপক্ষ আলোচনায় বসে তাদের কিছু দাবি যৌক্তিক বলে মেনে নেয় এবং কয়েকটি ফি বাতিলের আশ্বাস দেয়।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক মোহা. তালিম হোসেন জানান, শিক্ষার্থীরা তাদের বেতন ও সামগ্রিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কিছু দাবি পেশ করেছিল। এই বিষয়ে প্রো-ভিসি (শিক্ষা) ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছিলেন এবং তাদের সাথে আলোচনা করা হয়েছে।'

প্রশাসনের অধীনে থাকা স্কুল ও কলেজের এই বিষয়টি সম্পূর্ণ তাদের আওতাভুক্ত হওয়ায় তারা দ্রুত সমাধান করার চেষ্টা করছেন। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই দাবিগুলো বিবেচনা করে সমাধান প্রদান করার আশ্বস্ত করা হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জাবি/একেকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!