চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ বছর পূর্তি: রেজিস্ট্রেশন ফি প্রাক্তনের ১০০০ টাকা, বর্তমানদের বিনামূল্যে
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আগামী ১৮ নভেম্বর ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে হীরকজয়ন্তী উদযাপনের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ উপলক্ষে নানা বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকাল ৪টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ভিআইপি কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্যের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন চবি উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। তিনি বলেন, ১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর প্রতিষ্ঠার পর থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেবল সনদসর্বস্ব কোনো প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি জ্ঞানচর্চা, মুক্তবুদ্ধির বিকাশ, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও প্রগতিশীল চিন্তার অনন্য কেন্দ্র। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এই বিদ্যাপীঠ ছয় দশকের পথচলায় নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে দেশের অন্যতম শীর্ষ ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
উপাচার্য আরও জানান, হীরকজয়ন্তী কেবল অতীতের গৌরব স্মরণ করার অনুষ্ঠান নয়; বরং বিগত ছয় দশকের অর্জন মূল্যায়ন, সীমাবদ্ধতা চিহ্নিতকরণ এবং ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রার দিকনির্দেশনা নির্ধারণের সুযোগ। পাশাপাশি দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা চবির এলামনাই ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক মেলবন্ধন সুদৃঢ় করাই এই আয়োজনের প্রধান লক্ষ্য।
রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত নিয়মাবলী:
সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করা হয়, হীরকজয়ন্তী উপলক্ষে অংশগ্রহণকারীদের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন আজ ৩০ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে আগামী ১২ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। এতে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের (অ্যালামনাই) জন্য রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১,০০০ টাকা। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোনো ফি ছাড়াই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে পারবেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত অ্যাপস এর মাধ্যমে সকল অংশগ্রহণকারীকে রেজিষ্ট্রেশন সম্পূর্ণ করতে হবে।
অতিথি ও মূল আয়োজন:
উদযাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চবি সিনেট সদস্য ও ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল। চবি অ্যালামনাইসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানমালার প্রথম পর্যায়ে রয়েছে বর্ণাঢ্য র্যালি, সেমিনার, স্মৃতিচারণ সভা, মধ্যাহ্নভোজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় মেলা। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগের পরিবেশনায় উপস্থাপনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হবে হীরকজয়ন্তীর আয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. মো. শফিকুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ড. মোহাম্মদ আল আমীন, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রক্টর এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনের শেষভাগে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গত ৬০ বছরের পথচলায় অবদান রাখা সকলের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানান এবং আয়োজনটি সফল করতে সংবাদমাধ্যমের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।