ঢাকা,  রোববার   ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

[ সংযোগ ]

প্রতিকূলতা পেরিয়ে উচ্চশিক্ষার পথে হাসিমুখের শিক্ষার্থীরা

ডেইলি বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬:০৪, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রতিকূলতা পেরিয়ে উচ্চশিক্ষার পথে হাসিমুখের শিক্ষার্থীরা
স্বপ্নসারথীর‘ কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ২০২৬’-এ হাসিমুখ সমাজ কল্যাণ সংস্থার কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে

একটি ছোট ঘরে গাদাগাদি করে বসবাস, পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণে অনিশ্চয়তা—এমন বাস্তবতার মধ্যেই অনেক সুবিধাবঞ্চিত ও বস্তি এলাকার শিশুর বেড়ে ওঠা। আর্থিক সংকট ও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে তাদের কাছে নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কিংবা উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে যথাযথ সহায়তা ও সুযোগ পেলে এই পরিস্থিতি বদলাতে পারে। তারই উদাহরণ হাসিমুখ সমাজ কল্যাণ সংস্থার শিক্ষার্থীরা। একসময় যাদের জন্য পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ, তাদের অনেকেই এখন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, নার্সিং ইনস্টিটিউট ও পলিটেকনিকে পড়াশোনা করছে। কেউ কেউ ভাষা শিখে দেশের বাইরেও উচ্চশিক্ষার সম্ভাবনা খুঁজছে।

শিক্ষার্থীদের এই অগ্রযাত্রায় সহায়তা করছে হাসিমুখ সমাজ কল্যাণ সংস্থা। পড়াশোনার জন্য শিক্ষা উপকরণ ও স্টেশনারি সরবরাহের পাশাপাশি সংস্থাটি তাদের পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছে। মেয়েশিশুদের জন্য স্যানিটারি প্যাড বিতরণ এবং শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

শিশুদের দৈনন্দিন প্রয়োজন বিবেচনায় ঈদে নতুন পোশাক, শীতকালে শীতবস্ত্র ও প্রয়োজনীয় খাবারও সরবরাহ করা হয়। এসব উদ্যোগের উদ্দেশ্য তাৎক্ষণিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা।

শিক্ষার পাশাপাশি আত্মনির্ভরতার প্রস্তুতিতেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেয়েশিক্ষার্থীদের শেখানো হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ক্রাফট ও হস্তশিল্পের কাজ, যাতে ভবিষ্যতে এসব দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

এসব উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থীদের সাফল্যও স্বীকৃতি পেয়েছে। সম্প্রতি স্বপ্নসারথীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘ কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ২০২৬’-এ হাসিমুখ সমাজ কল্যাণ সংস্থার ২৮ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। এসএসসি ও এইচএসসি উত্তীর্ণ এসব শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, নার্সিং ইনস্টিটিউট ও পলিটেকনিকসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করছে। এ ছাড়া চলতি বছর সংস্থাটির আরও আটজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক (সচিব) ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন লেখক, নাট্যকার ও সাংবাদিক আনিসুল হক। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন স্বপ্নসারথীর প্রধান উপদেষ্টা ও এসইএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল।

এই অর্জন শুধু পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার সাফল্য নয়; এর পেছনে রয়েছে প্রতিকূলতার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া এবং নিজেদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরির চেষ্টা। শিক্ষার্থীদের এই অগ্রযাত্রা দেখায়, প্রয়োজনীয় সহায়তা ও দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পেলে সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও তারা নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের পথে এগিয়ে যেতে পারে।

তবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের আরও সুযোগ ও সহযোগিতা প্রয়োজন। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মমুখী দক্ষতা অর্জনের ধারাবাহিক সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে তারা শুধু উচ্চশিক্ষা গ্রহণই নয়, ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরতার পথও তৈরি করতে পারবে।

হাসিমুখের শিক্ষার্থীদের সাফল্য তাই ব্যক্তিগত অর্জনের পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয় কোনো শিশুর আর্থিক অসচ্ছলতা যেন তার স্বপ্ন দেখার কিংবা সেই স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।

 

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেয়ার/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!