শুক্রবার দুপুরে শহরের কলেজ রোড এলাকায় একটি বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন ঐ শিক্ষার্থীর পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে তারা পুলিশের বিচার ও শিক্ষার্থীর মুক্তি দাবি করেন।
ভুক্তোভোগী শিক্ষার্থী সানি ব্যাপারী কালকিনি উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের ফাসিয়াতলা এলাকার কুদ্দুস ব্যাপারীর ছেলে। সে কালিনগর ফাসিয়াতলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে।
.png)
সংবাদ সম্মেলনে সানির পরিবার জানায়, গত ৭ ফেব্রুয়ারি খুন হন কৃষকলীগ নেতা মানিক সরদার। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সীমা খানম বাদী হয়ে কালকিনি থানায় ১৭ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এ মামলায় সানিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে সানির পরিবারের কাছে মোবাইলে কথা বলেন এসআই হিমেল। তিনি গত সোমবার রাত ৯টার দিকে সানিকে সঙ্গে নিয়ে মাদারীপুর জেলার গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে আসার জন্য বলেন। সেই অনুযায়ী পরিবারের লোকজন সানিকে নিয়ে গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে যান। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরদিন সকালে পরিবারের হাতে সানিকে তুলে দেওয়ার কথা থাকলেও বুধবার মাদারীপুর পৌর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে পাঠায় পুলিশ। পরে আদালত সানিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সংবাদ সম্মেলনে সানির ভাবি ইশরাত জাহান বলেন, সানিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক রেখে পুলিশ নির্যাতন চালায়। আমরা সানিকে আনতে গেলে তারা টালবাহানা শুরু করে। একপর্যায় পুলিশ জানায়, সানিকে আদালতে চালান করা হয়েছে।
সানির দুলাভাই মহসিন কাজী বলেন, সানিকে তিনদিন আটকে রেখে নির্যাতনের পর বয়স ১৯ বছর দেখিয়ে আদালতে পাঠান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিমেল রানাসহ ডিবি অন্য সদস্যরা। আমরা পুলিশকে সানির বিষয়ে সব জানিয়েছি। সানি এবার এসএসসি পরীক্ষা দেবে। এসএসসির রেজিস্ট্রেশনে তার বয়স ২০০৬ সালে ১ জুলাই। জন্মনিবন্ধনেও তাই দেওয়া আছে। তবুও পুলিশ এসব বাদ দিয়ে সানির বয়স ৩ বছর বাড়িয়ে আদালতে পাঠিয়েছে। বয়স না বাড়ালে সানিকে কিশোর সংশোধানাগারে রাখা যেত। অথচ কিশোর হওয়ার পরও সানিকে কারাগারে থাকতে হচ্ছে। পুলিশের এমন কাণ্ড দেখে আমরা হতবাক। আমরা ডিবি পুলিশের বিচার চাই ও সানির মুক্তি চাই।
মাদারীপুর আদালতের আইজীবী অ্যাডভোকেট জামিনুর হোসেন মিঠু বলেন, গ্রেফতারের পর আসামিকে ২৪ ঘন্টার বেশি আটকে রাখার কোনো সুযোগ নেই। আটকে রেখে নির্যাতন করা তো বেআইনি। অপ্রাপ্ত বয়স্ক হলে কিশোর আদালতে তার বিচার হওয়ার বিধান রয়েছে।
জানতে চাইলে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক হিমেল রানা বলেন, মানিক সরদার হত্যা মামলায় সানিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। পরে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার কোর্টে চালান করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) আল-মামুন বলেন, হত্যা মামলার সঙ্গে সানি জড়িত। তাই তার পরিবার নিজেদের দায় এড়াতে অনেক কথাই বলতে পারে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ঐ আসামি বলেছে, তার বয়স ১৯ থেকে ২০ বছর।