ওজন কমাবে সকালের চারটি অভ্যাস
ওজন কমানোর জন্য শুধু খাবারের পরিমাণ কমানো বা কঠোর ব্যায়াম করাই যথেষ্ট নয়। দিনের শুরুতে কিছু সহজ ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসও ওজন নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকে আরও কার্যকর করে তুলতে পারে। ঘুম থেকে উঠে পানি পান করা, নাশতার আগে হালকা ব্যায়াম, পুষ্টিকর নাশতা খাওয়া এবং ধীরে ধীরে খাবার খাওয়ার মতো অভ্যাসগুলো নিয়মিত মেনে চললে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখা সহজ হয়।
বিশেষ করে যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তারা সকালের এই অভ্যাসগুলো দৈনন্দিন রুটিনে যুক্ত করতে পারেন।
আসুন বিস্তারিত জানা যাক—
সকালে ১–২ গ্লাস পানি পান করুন
ঘুম থেকে উঠে পানি পান করলে শরীর সতেজ হয় এবং ঘুমের পর শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখতে সহায়তা করে। রাতে শরীরে জমে থাকা বর্জ্য বের করে দিতে এবং কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্রমে পানির ভূমিকা রয়েছে।
.png)
যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তারা সকালের নাশতার আগে এক গ্লাস পানি পান করতে পারেন। এতে কিছুটা পেট ভরা অনুভূতি তৈরি হয়, ফলে খাবারের পরিমাণ কমতে পারে। কুসুম গরম পানি পান করতে চাইলে সেটিও নেওয়া যেতে পারে। তবে ওজন কমানোর জন্য সাধারণ পানির তুলনায় গরম পানির বিশেষ কোনো প্রমাণিত সুবিধা নেই।
নাশতার আগে হালকা ব্যায়াম করুন
সকালের নাশতার আগে ব্যায়াম করলে শরীর সঞ্চিত শক্তির উৎস ব্যবহার করে। এতে শরীরের চর্বি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ওজন কমাতে চাইলে দ্রুত হাঁটা, যোগব্যায়াম বা ধীরগতিতে জগিংয়ের মতো হালকা ব্যায়াম বেছে নেওয়া ভালো। খালি পেটে অতিরিক্ত কঠোর ব্যায়াম এড়িয়ে চলা উচিত। শরীর দুর্বল লাগলে বা মাথা ঘোরার মতো সমস্যা হলে খালি পেটে ব্যায়াম না করাই ভালো।
স্বাস্থ্যকর সকালের নাশতা খান
প্রোটিন, ফাইবার ও স্বাস্থ্যকর চর্বি সমৃদ্ধ নাশতা দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমাতে সাহায্য করতে পারে। ওজন কমাতে চাইলে নাশতায় অতিরিক্ত চিনি, তেল ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার কমিয়ে পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়া ভালো।
বাংলাদেশের মানুষের জন্য সকালের নাশতায় আটার রুটি সঙ্গে ডিম ও সবজি, চিড়া সঙ্গে টক দই ও অল্প বাদাম, ওটসের সঙ্গে দুধ ও ফল, সবজি দিয়ে ডিমের অমলেট, ডাল ও সবজি দিয়ে রুটি খাওয়া যেতে পারে। চাইলে পরিমাণমতো পেয়ারা, আপেল, কমলা বা পেঁপে রাখা যায়। ভাত খাওয়ার অভ্যাস থাকলে অল্প পরিমাণ ভাতের সঙ্গে ডাল, সবজি ও ডিম বা মাছও নাশতা হিসেবে নেওয়া যেতে পারে।
নাশতায় পুরি, পরোটা, সিঙ্গারা, সমুচা, মিষ্টি বা অতিরিক্ত চিনি দেওয়া চা নিয়মিত না খাওয়াই ভালো। এসব খাবারে অতিরিক্ত ক্যালোরি, তেল বা চিনি থাকতে পারে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
ধীরে ধীরে খান, ভালোভাবে চিবিয়ে খান
দ্রুত খেলে শরীর থেকে মস্তিষ্কে তৃপ্তির সংকেত পৌঁছানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায় না। ফলে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাওয়া হয়ে যেতে পারে।
ধীরে ধীরে এবং ভালোভাবে চিবিয়ে খেলে খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। এতে খাবার ভালোভাবে ভাঙতে ও হজমের প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারে। তাই শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়, কীভাবে খাচ্ছেন—সেদিকেও নজর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
লেখক : পুষ্টিবিদ লিনা আকতার
রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল এন্ড রিসার্চ সেন্টার, দিনাজপুর