গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার আধাইপুর ইউপির বালুপাড়া নামক স্থানে ঘুরাঘুরি করছিল আলম। এ সময় বদলগাছী থানার টহলরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান তাকে উদ্ধার করে। পরে তার পকেটে থাকা চিরকুট থেকে ঠিকানায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
আলম কড়ইকান্দি গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে। শনিবার রাত ৯টার দিকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে থানা পুলিশ। রাতেই তাদের জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠিয়ে দেওয়া হয়।
.png)
জানা যায়, শুক্রবার রাতে উপজেলার বালুপাড়া নামক স্থানে আলম রাস্তায় ঘুরাঘুরি করছিল। পরে তাকে উদ্ধার করে থানায় নেয়া হয়। থানার অফিসার ইনচার্জের নির্দেশে এএসআই মিজান ছেলেটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কোনো তথ্য পাননি। এমনকি তার আচার আচরণ ও কথা অসঙ্গতি মনে হচ্ছিল। এক পর্যায়ে তার পকেটে থাকা একটি চিরকুট (কাগজ) লেখা ঠিকানার সূত্র ধরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ছেলেটি মানসিক প্রতিবন্ধী বলে জানায় পুলিশ।
থানার উপরিদর্শক (এসআই) মোনোয়ারের সহযোগিতায় নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সার্ভিস ডেক্সের সহায়তায় আলমকে তার বাবা ও ভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ছেলেকে ফিরে পাওয়ায় থানা পুলিশকে ধন্যবাদ জানান আলমের বাবা জামাল উদ্দিন।
আলম বলেন, নিজের ঠিকানা আমার জানা ছিল না। তবে বাবা ও ভাইকে চিনতে পেরেছি। ট্রেনে করে ঘুরতে ঘুরতে চলে এসেছি। ঠিকমতো কোথাও খাওয়া দাওয়া করতে পারিনি।
আলমের বাবা জামাল উদ্দিন বলেন, গত শুক্রবার আলম ঢাকার জুরাইনের রি-রোলিং কারখানার সামনে থেকে হারিয়ে যায়। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে হতাশ হয়েছিলাম। এক বছর আগেও ছেলেটি হারিয়ে গিয়েছিল। পরে পুলিশের সহযোগিতায় ফিরে পাই। কিন্তু এবার কোনো জিডি ছাড়াই ছেলেকে ফিরে পেয়েছি। ছেলে মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তাকে কিছু বলতে পারি না।
বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর ইসলাম বলেন, আলমের কথাবার্তা অসংলগ্ন মনে হচ্ছিল। নিজের পরিচয় ঠিকমত বলতে পারে না। তাকে মানসিক প্রতিবন্ধী মনে হচ্ছিল। তার পকেটে থাকা কাগজে লিখা ঠিকানার সূত্র ধরে অনেক খোঁজাখুঁজি করে শনিবার রাত ৯টার দিকে তার বাবা জামাল উদ্দিনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।