শনিবার সকাল ১০টা পযন্ত সূর্যে মুখ দেখা যায়নি। গত দুইদিনে ভেড়ামারায় কনকনে হাড় কাঁপানো শীতের সঙ্গে ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের দাপটে শীতে জবুথবু উপজেলাবাসী। বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া শ্রমজীবী, নিম্নবিত্ত ও ছিন্নমূল মানুষ।
রিকশাচালক নবীর উদ্দীন বলেন, শীতের কারণে গত দুইদিন ধরে রিকশা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে । শীতের প্রকোপ বেশি হওয়ায় তেমন যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে কমেছে দৈনিক আয়।
.png)
উপজেলার কৃষি শ্রমিক আজমুল হক বলেন, তীব্র শীতে হাত-পা জমে যাওয়ার মত অবস্থা। এই পরিস্থিতিতে মাঠে থাকাটাও কষ্টকর।
ক্ষেমিরদিয়াড় মাঠকর্মী রুকসানা আক্তার বলেন, ঘরের বেড়ার ফাঁক দিয়ে ক্রমাগত ঠাণ্ডা বাতাস ঢুকছে। কাঁথা-কম্বল দিয়েও শীত মানানো যাচ্ছে না।
এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত মানুষের চাপ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এরমধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যাই বেশি। মানুষ ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার সোনিয়া ঘোষ বলেন, হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে থাকা শয্যার তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যক রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্য ওয়ার্ডগুলোতেও দৈনিক শীতজনিত অসুস্থতা নিয়ে রোগী ভর্তি হচ্ছে। হাসপাতালের বহির্বিভাগেও রোগীর অতিরিক্ত চাপ দেখা যাচ্ছে।
বিশেষ করে রেল স্টেশনসহ উপজেলার বিভিন্নস্থানে অবস্থানকারী ছিন্নমূল মানুষগুলো শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। শীতার্ত মানুষগুলো একটি গরম কাপড়ের জন্য তাকিয়ে আছে বিত্তবানদের দিকে।
এদিকে হরেক রকমের শীতবস্ত্রের পসরা নিয়ে রেল লাইনের ধারে, স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড ও বাজরগুলোতে বসেছে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। তবে শীতবস্ত্রের দাম বেশি হওয়ায় অভাবী লোকগুলো কিনতে পারছে না তাদের প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র। তীব্র শীতের কারণে ভেড়ামারায় শীতবস্ত্র বিতরণ জরুরি হয়ে পড়েছে।