প্রভাবশালী এ চক্রটি বাগান মালিককে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকিও দিয়েছে। রোববার রাত ৮টা থেকে গভীররাত পর্যন্ত এ তাণ্ডব চালায়। মধ্যরাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় মঙ্গলবার চকরিয়া থানায় মামলা হয়েছে। উপজেলার কাকারা ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাইনবোর্ড পাহাড়ের সামাজিক বনায়নে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় চকরিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সামাজিক বনায়নের মালিক এম. জাহেদ চৌধুরী বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারে ১১ জনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাতসহ ৪১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
.png)
মামলার বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, ২০০৭-০৮ সালে বন মন্ত্রণালয় আধা হেক্টর (সোয়া তিন কানি) সামাজিক বনায়নের প্লট বাগান করার জন্য লিজ হিসেবে প্রদান করেন। এরপর থেকে ওই বাগানে বিভিন্ন ধরনের আগর, একাশি, অর্জুন, ইউক্লিপটাস, বেলজিয়ামসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করেন। কিন্তু অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা রোববার রাতে বাগানে অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করে। তারা ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের ৪৬ টি গাছ কেটে নিয়ে যায়। বাগানে আগুন দিয়ে ২ লাখ টাকা মূল্যের সহস্রাধিক চারা গাছ পুড়িয়ে ফেলে। পাহাড় কেটে আরো লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি করে।
এম জাহেদ চৌধুরী বলেন, এ ঘটনায় চকরিয়া থানার ওসি চন্দন কুমার চক্রবর্তীর নির্দেশে ওই রাতে এএসআই জাহাঙ্গীর আলম ও সোমবার সন্ধ্যায় এসআই মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের পৃথক দৃটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এছাড়াও বিস্তারিত ঘটনা চট্টগ্রাম বিভাগীয় বন সংরক্ষক বিপুল কৃষ্ণ দাশ ও কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন সরকারকে অবহিত করি।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় বন সংরক্ষক বিপুল কৃষ্ণ দাশ বলেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কক্সবাজারের বিভাগীয় কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি।
চকরিয়া থানার ওসি চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, ঘটনার খবর শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। সত্যতা পেয়ে বাদীর এজাহারটি মামলা হিসেবে এন্ট্রি করেছি। এ ঘটনায় জড়িতদের আটক করতে অভিযান শুরু করেছি।
এদিকে ঘটনার পর পুলিশ কয়েকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও কাকারা বনবিট ও রেঞ্জ অফিস নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে বলে জাহেদ চৌধুরী দাবি করেছেন।