ডিজিটাল লেনদেনে ক্রেতা-বিক্রেতাদের খরচ গুনতে হবে না। যশোরে ইস্টার্ন ব্যাংক (ইবিএল) ও মিউচ্যুয়াল ব্যাংক কাজ করবে। গত কোরবানির ঈদ ঘিরে যশোর জেলায় ২৪টি অনুমোদিত পশুহাট ছিল। সবগুলোই ‘ক্যাশলেস’ হবে কিনা তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। আবার হাটের নামও উল্লেখ করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্ধেকের বেশি পশুহাট ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ কার্যক্রমের আওতায় থাকবে।
জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল আজহার সময় কোরবানির পশুর হাটে নগদ অর্থের চাহিদা বেড়ে যায়। নগদ টাকা নিয়ে পশু কিনতে এসে কখনো কখনো ছিনতাই ও প্রতারণার শিকার হন সাধারণ মানুষ। আবার বিক্রেতারাও জাল নোটের কারণে পড়েন বিপাকে। এ অবস্থায় যশোরে পশুর হাটগুলোতে ডিজিটাল লেনদেন চালু করতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। সহজ ও ঝুঁকিমুক্ত পশুহাট করতে চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ চিঠির অনুলিপি এসেছে যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে। চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রাশেদুল হক।
.png)
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক মুহাম্মদ বদিউজ্জামান দিদারের স্বাক্ষর করা চিঠিতে বলা হয়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশুর হাটে নগদ অর্থের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। এতে ব্যাংকগুলোর পক্ষে নগদ অর্থের সরবরাহ নিশ্চিত করা দুরূহ হয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষ ও পশু বিক্রেতারা জাল নোট, ছিনতাই ও বিভিন্ন প্রতারণার শিকার হন। এ অবস্থায় ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ কার্যক্রমের আওতায় তৃণমূল পর্যায়ের পশুর হাটগুলো আনা হবে।
ওই চিঠিতে বলা হয়, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশল অনুসারে জনগণের সব লেনদেনের প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজড করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করে যাচ্ছে। দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ‘ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমের’ আওতায় আনার জন্য চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ কার্যক্রম নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
এ কার্যক্রমের আওতায় চলতি বছরের কোরবানির পশুর হাটে বেচাকেনার জন্য দেশের কিছু স্থানে হাটের লেনদেন বাংলা কুইক রেসপন্স (কিউআর) কোডসহ অন্যান্য স্মার্ট মাধ্যমে ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে কোরবানির পশুর হাটগুলোতে কেনাবেচার পাশাপাশি হাসিলের অর্থও ডিজিটাল পদ্ধতিতে লেনদেন করার পরিকল্পনা আছে বলে ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
যশোরে ডিজিটাল লেনদেনে মূল ভূমিকায় থাকবে ইস্টার্ন ব্যাংক। এ ব্যাংকের যশোর শাখার ব্যবস্থাপক আব্দুল হক বলেন, আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা পেয়েছি। রোববার ঢাকা থেকে দুজন কর্মকর্তা আসবেন আমাদের প্রশিক্ষণের জন্য। এরপর প্রাণিসম্পদ বিভাগের সহযোগিতায় খামারি ও পশু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে। ক্যাশলেস লেনদেনে ক্রেতা-বিক্রেতারা উপকৃত হবেন বলে আশা করছি।
যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রাশেদুল হক বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরে চিঠি পাঠানো হয় চলতি মে মাসের তিন তারিখে। এরপর প্রাণিসম্পদ অধিদফতর ১০ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনাসহ জেলা পর্যায়ে কোরবানির ঈদ ঘিরে পশুহাট ‘ক্যাশলেস’ করার ব্যাপারে চিঠি পাঠিয়েছে। এর মধ্যে যশোর জেলা রয়েছে। এর মধ্যে আমরা পশু খামারিদের সঙ্গে মতবিনিময় শুরু করেছি। পশুহাট ‘ক্যাশলেস’ হলে পাইকার ও খুচরা ক্রেতা-বিক্রেতা জাল, ছেড়া ফাটা নোট, ছিনতাইসহ বিভিন্ন প্রতারণা থেকে রক্ষা পাবেন।
তিনি আরো বলেন, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে এটিএম মেশিন থেকে টাকা তুলে বিক্রেতাকে পশুর মূল্য পরিশোধ করা যাবে। পাশাপশি মোবাইল ব্যাংকিং’র মাধ্যমেও মূল্য পরিশোধ করা যাবে। হাটগুলোতে ডিজিটাল লেনদেন করলে বাড়তি খরচ হবে না। কার্ড ব্যবহারে কোনো চার্জ নেয়া হবে না। আবার মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা তুলতে ক্যাশ আউটে খরচ থাকবে না।
রাশেদুল হক জানান, যশোর জেলায় খামার মালিকদের তালিকা তৈরির কাজ এখনো শেষ হয়নি। এ পর্যন্ত প্রায় ৯ হাজার ছোট-বড় খামার মালিকের তালিকা করা হয়েছে। একই অবস্থা পশুর গণনার কাজ। এর মধ্যে প্রায় ৩১ হাজার গরু ও ৪৯ হাজার ৫০০ ছাগল গণনার আওতায় এসেছে। জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে তালিকা ও গণনা সম্পন্ন হবে।