উপজেলার লালমোহন ইউনিয়নের মুন্সির হাওলা গ্রামের আমন চাষি মো. রিয়াজ উদ্দিন। তিনি বলেন, গত ২০ বছর ধরে আমন ধান চাষ করছি। এ বছরও ৯৬ শতাংশ জমিতে আমন চাষ করেছি। ফসল কাটা পর্যন্ত অন্তত ২০-২৫ হাজার টাকার মতো খরচ হবে। তবে এ ফসল বিক্রি করা যাবে ৮০ হাজার টাকার মতো।
রিয়াজ উদ্দিন আরো জানান, প্রতিদিন তিন সময় এই ধান ক্ষেতে গিয়ে সময় দিতে হচ্ছে। বলতে গেলে এখন এই ক্ষেতের সঙ্গেই দিনের বেশিভাগ সময় কেটে যাচ্ছে। কারণ ক্ষেতে সার-ওষুধ প্রয়োগ ও নিয়মিত পরিচর্যা করতে হয়। আশা করছি এ বছর ভালো ফলন পাবো।
.png)
লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের আমন চাষি মো. মোতাহার হোসেন বলেন, প্রতি বছরই ধান চাষ করি। এ বছর দেড়শ’ শতাংশ জমিতে ধান চাষ করেছি। এখন নিয়মিত ক্ষেতে সময় দিচ্ছি। দেখতে হয় ধান গাছ কোনো রোগে আক্রান্ত হয়েছে কিনা। আবহাওয়া ঠিক থাকলে ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছি।
লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের আরেক আমন চাষি মো. সালাউদ্দিন জানান, গত বছর ৪০ শতাংশ জমিতে ধান চাষ করেছিলাম। ফলনও ভালো হয়েছিল। তাই এ বছর আরো কিছু জমি বৃদ্ধি করেছি ধান চাষের জন্য। এখন ৬০ শতাংশ জমিতে আমার ধান রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে খরচ বাদে ভালো লাভবান হবো ইনশাআল্লাহ।
লালমোহন উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলায় ২৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে লালমোহনের লর্ডহার্ডিঞ্জ, বদরপুর, ধলিগৌরনগর, পশ্চিম চরউমেদ ও ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের চাষিরা সর্বোচ্চ ধানের আবাদ করেছেন। কৃষকদের চাষ করা ধানের মধ্যে রয়েছে- বিআর-১১, বিআর-২২, বিআর-২৩, ব্রি ধান-৪১, ব্রি ধান-৪৪, ব্রি ধান-৪৯, ব্রি ধান-৫২, ব্রি ধান-৭৬, কাজল সাইল, লোতর, টেফু, লেম্বু, কালোজিরা ও কালাকোরাসহ আরো কয়েকটি জাতের ধান রয়েছে।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আহসান উল্যাহ বলেন, কৃষকরা যেকোনো সমস্যা নিয়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। আমরা তাদের সমস্যা জেনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আমনের বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।