শনিবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে চাঁদপুর সদর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান নৌ পুলিশের অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নৌ পুলিশের অভিযানে অভয়াশ্রম এলাকা থেকে ১০৪ জেলেকে আটক হয়। উদ্ধার করা হয় ৭ লাখ ৫৯ হাজার মিটার কারেন্টজাল, ৫৭৪ কেজি ইলিশ এবং ৩৩টি মাছ ধরার নৌকা। এসব ঘটনায় ৫টি ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৪২ জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড, ৮ জেলেকে ৩৪ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, ১৬ জেলে অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। বাকী ৩৮ জেলের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা হয়।
.png)
ওসি আরো জানান, সাজাপ্রাপ্ত আসামিদেরকে কারাগারে প্রেরণ, উদ্ধারকৃত ইলিশ মাছ স্থানীয় এতিমখানা ও গরিবদের মাঝে বিতরণ, কারেন্টজাল আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট এবং উদ্ধারকৃত নৌকা থানা হেফাজতে রয়েছে।
অপরদিকে চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলা টাস্কফোর্সের অভয়াশ্রম এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টার অভিযানের তথ্য জানিয়েছেন সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. তানজিমুল ইসলাম।
তিনি জানান, অভিযানে আটক ৩৯ আসামির মধ্যে ১০ জনকে ১ মাস, ২৮ জনকে ৭ দিন করে কারাদণ্ড দিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিগার সুলতানা। এক আসামি অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। একই সময়ে উদ্ধার করা হয় ৩টি মাছ ধরার নৌকা।
টাস্কফোর্সের এসব অভিযানে নেতৃত্ব দেন চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মো. মেহেদী হাসান, নৌ পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ কামরুজ্জামানসহ উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা। অভিযানে নৌ পুলিশের একাধিক দল ও কোস্টগার্ড সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
ইলিশের নিরপদ প্রজননের লক্ষে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম এলাকায় ১২ অক্টোবর থেকে ইলিশসহ সব ধরণের মাছ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, মজুদ, পরিবহন ও বিনিময় নিষিদ্ধ করেছে সরকার। অভিযান চলবে ২ নভেম্বর পর্যন্ত।