তবে বানিয়াচং থানার পুরো ভবন আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যাওয়ায় এখনো সেখানে ফেরেননি কোনো পুলিশ সদস্য। থানার আসবাবপত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়ে যাওয়া ও নানা সমস্যা থাকায় সেবা কার্যক্রম শুরু হতে বিলম্ব সেখানে। যদিও অন্য ৮টি থানায় পুলিশ কাজে ফেরায় থানায় সেবাগ্রহীতাদের সংখ্যা বাড়ছে।
সরেজমিন মঙ্গলবার দুপুরে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় গিয়ে দেখা গেছে পুলিশের দাফতরিক কার্যক্রম। পুলিশ সদস্যরা যে যার মতো করে তাদের ডিউটি পালন করছেন। আবার কোনো কোনো সদস্যর সঙ্গে তাদের মামলা সংক্রান্ত কথাবার্তা বলছেন সাধারণ লোকজন। এছাড়াও জিডি এন্ট্রি ও লিখিত অভিযোগ দায়েরসহ নানা সমস্যা নিয়ে ডিউটি অফিসারের রুমেও দেখা গেছে সেবাগ্রহীতাদের।
.png)
সেবাগ্রহীতারা জানান, গত কয়েকদিন থানার কোনো কার্যক্রম না থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে তাদের। তবে এখন তা ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করেছে। পুলিশ থানায় ফেরায় স্বস্তি আসতে শুরু করেছে জনমনে।
জানা যায়, ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন থানায় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ বাঁধে। দফায় দফায় সংঘর্ষে হবিগঞ্জ শহরসহ বিভিন্ন এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের শিকার ও হত্যা করা হয় পুলিশ সদস্যদের।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় আসা রুবেল মিয়া নামে এক যুবক জানান, সদর থানার কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকেই থানায় সেবাগ্রহীতারা আসতে শুরু করেছে। আমি নিজেও একটি কাজে থানায় এসেছি।
পারুল আক্তার নামে এক নারী জানান, আমি মামলা সংক্রান্ত কাজে গেল কয়েকদিন থানায় আসার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তাদের কাউকে পাইনি। আজ থানায় এসে পুলিশ সদস্যদের পেয়েছি। আমার কাজটি শেষ করতে পেরেছি।
তিনি আরো জানান, পুলিশ কাজে না থাকলে যে কতটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়, তা আমি গত কয়েকদিনে বুঝেছি।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি নূরে আলম বলেন, আমরা থানার কার্যক্রম শুরু করেছি। দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম শুরু হবে। আমাদের সাধ্যমতো জনগণকে সেবা দিতে প্রস্তুত রয়েছি।
হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. আক্তার হোসেন বলেন, বানিয়াচং থানা ছাড়া জেলার সব কয়েকটি থানায় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যেহেতু বানিয়াচং থানার পুরো ভবনটি পুড়ে গেছে তাই নতুন পুলিশ সদস্যদের সেখানে নিয়োগ দেওয়া হবে।