ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

থাইল্যান্ডে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্ভাবনী দলের সাফল্য

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:২৩, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
থাইল্যান্ডে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্ভাবনী দলের সাফল্য
ছবি: সংগৃহীত।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তরুণ উদ্ভাবক দল থ্যাইল্যান্ডে সাফল্য অর্জন করেছে। সেখানে তারা বিভিন্ন বিষয়ে পাশাপাশি একটি রোবটও প্রদর্শন করেছেন, যাতে একটি পূর্ণাঙ্গ সমন্বিত জীবনরক্ষা ও পরিবেশ সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। 

উদ্ভাবকদের দাবি, ‘ইকো পালস’ শুধু রোবট নয়, ইঞ্জিনিয়ারিং ইকোসিস্টেম, যেখানে প্রতিটি ইউনিট একে অপরকে সহায়তা করে। জেলা শহরের নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কিশোর উদ্ভাবক আহনাফ বিন আশরাফ নাবিল ও তার সহযোগী এম আদিয়াত ইয়ামিম রায়ান, ফজলে রাব্বির সমন্বয়ে গঠিত হয় এ উদ্ভাবনী দল। 

এর মধ্যে নাবিল ও রায়ান চলতি বছরের ২৯ থেকে ৪ জানুয়ারি থাইল্যান্ডের ওয়াল্ড ইয়ুথ স্টিম ইনভেনশন ও ইনোভেশন ইন্টারন্যাশনাল-২০২৬ নামে একটি আয়োজনে রোবট প্রদর্শন করেন এবং প্রশংসিত হন। তারা সেখানে ইঞ্জিনিয়ারিং ও ইন্টারন্যাশনাল সিলভার মেডেল, বেস্ট পোস্টার প্রেজেন্টেশন অ্যাওয়ার্ড ও প্যানেল চয়েজ অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন।

Advertisement

নাবিল জানায়, রোবটটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ এলাকায় (ভূমিকম্প, বন্যা, ভবন ধ্বংস) প্রবেশ করে, ধ্বংসস্তুপ, পাথর, কাঁদা, ভাঙা রাস্তা, অতিক্রম করতে পারে, জীবিত, অচেতন বা আহত মানুষ শনাক্ত করে, সেন্সরের মাধ্যমে শ্বাস-প্রশ্বাস শনাক্ত করে, তাপমাত্রা ও নড়াচড়া বিশ্লেষন করে, গ্যাস বা আগুন থাকলে সতর্ক সংকেত দেয়। মূল কাজ হলো, মানুষের আগে গিয়ে জীবন রক্ষা করা।

নাবিল আরো জানায়, এটি আকাশ থেকে দুর্গত এলাকা স্ক্যান করে, ক্ষয়ক্ষতির ম্যাপ তৈরি করে, উদ্ধার অভিযানের রুট নির্ধারণে সাহায্য করে, যেসব জায়গায় রোভার পৌঁছাতে পারছে না, সেগুলো শনাক্ত করে, বড় এলাকা দ্রুত পর্যবেক্ষণ করে। এসব বিষয় এ রোবটের সবচেয়ে বড় দিক।

এসএসসি পরীক্ষার্থী কিশোর উদ্ভাবক আহনাফ বিন আশরাফ নাবিল আবারও প্রমাণ করলেন স্বপ্ন, সাহস আর অধ্যবসায় থাকলে সীমাবদ্ধতা কখনো বাধা হতে পারে না। এই প্রতিযোগিতায় নাবিল একযোগে টিম লিড, প্রজেক্ট লিড ও রিসার্চ লিড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগেও তিনি উদ্ভাবক হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার সাফল্য তুলে ধরেন। 

আন্তর্জাতিক সাফল্যের পেছনে যে কঠিন বাস্তবতা রয়েছে, সেটিও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন নাবিল। 

তিনি বলেন, গবেষণা ও উদ্ভাবনের কাজ কখনোই সহজ নয়। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে গেলে সময়, শ্রম এবং বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সব সময় প্রয়োজনীয় ফান্ডিং পাওয়া যায় না। অনেক সময় প্রত্যাশিত সহযোগিতাও মেলে না। যদি পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতা ও বিশেষ করে সরকারি সহায়তা পাওয়া যেত, তাহলে আমরা আরো বেশি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারতাম এবং আরও বেশি বার বাংলাদেশের পতাকাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে সক্ষম হতাম। সরকার এ বিষয়ে উদ্যোগী হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

নাবিলের মা নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষিক নায়েনা আক্তার তৃণা বলেন, নাবিলের প্রতিটি অর্জনের পেছনে আছে কঠোর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং আল্লাহ’র ওপর অটল বিশ্বাস। ছোটবেলা থেকেই ও দেশের জন্য কিছু করতে চেয়েছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের নাম উঠলে একজন মা হিসেবে আমি গর্বিত হই।

ডেইলি-বাংলাদেশ/SA
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!