ঢাকা,  বুধবার   ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

গাইবান্ধায় এসপির বাংলো থেকে পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার

স্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কলে থেকে আত্মহত্যা
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:১১, ২৬ আগস্ট ২০২৬
গাইবান্ধায় এসপির বাংলো থেকে পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার
গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের কার্যালয়। ইনসেটে হাবিবুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধার পুলিশ সুপারের বাসভবনের ব্যারাক থেকে হাবিবুর রহমান  (নায়েক ৬০৫) নামের এক পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।  ব্যারাকে স্ত্রীর সাথে ভিডিও কলে থেকে ওই পুলিশ সদস্য আত্মহত্যা করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বুধবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে বিষয়টি  নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) শেখ মুত্তাজুল ইসলাম।

এদিন বিকেল মাড়ে ৩ টার দিকে পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিনের শহরের সরকারি বাসভবনের ব্যারাক থেকে ওই পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ৩৩ বছর বয়সী নিহত নায়েক হাবিবুর রহমানের বাড়ি নিলফামারী জেলার সদর উপজেলার সরদার পাড়ায়। তিনি ওই এলাকার মন্টু মিয়ার ছেলে। তার ৫/৭ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে বলে জানা গেছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে গত ১২ আগস্ট গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের বাংলোতে গার্ডে যোগদান করেন হাবিবুর রহমান। সেখান আরো কয়েকজন পুলিশ সদস্য দায়িত্বপালন করেন। আজ দুপুর সাড়ে ৩ টার দিকে ব্যারাকের ওয়াশ রুমের দরজা দীর্ঘ সময় বন্ধ পান অন্য সদস্যরা। পরে সন্দেহ হলে ব্যারাকের গার্ড কমান্ডার সোহেল মিয়া তাকে  কয়েকবার ডাকেন। এতে সাড়া না মেলায় কয়েকজনকে সঙে নিয়ে ওয়াশরুমের দরজায় ধাক্কা দিয়ে দরজা খুললে ভিতরে প্রবেশ করে হাবিবুরকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। হাবিবুর গলায় হামছা পেছিয়ে ভবনের রডের সাথে ঝুলে ঝুলছিল, পরে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির হোসেনের উপস্থিতিতে মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট করে পুলিশ।

Advertisement

গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল ব্যারাকের অন্য  উপস্থিত পুলিশ সদস্য ও গার্ড কমান্ডার সোহেলের বরাতে বলেন, দুপুরে মোবাইল ফোনে হাবিবুর তার স্ত্রীর সাথে ভিডিও কলে ঝগড়া করছিলো। ঝগড়ার একপর্যায়ে সে ওয়াশ রুমে প্রবেশ করে এবং স্ত্রীর সাথে ভিডিও কলে থেকে আত্মহত্যা করে। 

তিনি বলেন, এটি চরম দুঃখজনক। হাবিবুরের উগ্রতা দেখে তার স্ত্রী আমাদের জানাতে পারতেন অথবা ৯৯৯ নম্বরেও হেল্প চাইতে পারতেন।
নিহত হাবিবুর আজ রোজা ছিলেন জানিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা আসতেছেন বলেও জানান ওসি।

গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) শেখ মুত্তাজুল ইসলাম বলেন, বিকেল সাড়ে ৩ টা আগে/পরে ওয়াশরুমে গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে নায়েক হাবিবুর রহমান। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল কর হয়। মরদেহ ময়নাতদস্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে।
এ সময় এক প্রশ্নের উত্তরে এ কর্মকর্তা বলেন, পারিবারিক কলহ থেকে এই আত্মহত্যা ঘটিয়েছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এম ইউ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!