ঢাকা,  রোববার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

কাপাসিয়ায় ডেঙ্গুর হানা, ৭ দিনে শনাক্ত ৭৪

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:০৩, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কাপাসিয়ায় ডেঙ্গুর হানা, ৭ দিনে শনাক্ত ৭৪
এক সপ্তাহে শনাক্ত ৭৪

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় বাড়ছে জ্বরের প্রকোপ। গত সাত দিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জ্বরসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে আসা ৩৬৩ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৪ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত ২৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিশেষ করে শেষ দুই দিনে ১৩৬ জনের পরীক্ষায় ২৬ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দৈনিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ১২ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এসব পরীক্ষা করা হয়। সাত দিনে পরীক্ষার বিপরীতে ডেঙ্গু শনাক্তের হার প্রায় ২০ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে এই হার পুরো উপজেলার জনসংখ্যার মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার নয়; কেবল ওই সময়ে হাসপাতালে পরীক্ষা করা রোগীদের ফলাফলের ভিত্তিতে হিসাব করা হয়েছে।

Advertisement

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১২ সেপ্টেম্বর ৫০ জনের পরীক্ষায় ১২ জন, ১৩ সেপ্টেম্বর ৪৮ জনের মধ্যে ৮ জন, ১৪ সেপ্টেম্বর ৪৩ জনের মধ্যে ৯ জন, ১৫ সেপ্টেম্বর ৪৮ জনের মধ্যে ১১ জন এবং ১৬ সেপ্টেম্বর ৩৮ জনের মধ্যে ৮ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর ৫৪ জনের পরীক্ষায় ১২ জন এবং ১৮ সেপ্টেম্বর ৮২ জনের পরীক্ষায় ১৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।

অর্থাৎ, শেষ দুই দিনে ১৩৬টি পরীক্ষায় ২৬ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এই দুই দিনে শনাক্তের হার প্রায় ১৯ দশমিক ১ শতাংশ।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, অনেকের জ্বর দুই-তিন দিন ধরে থাকলেও কারও কারও ক্ষেত্রে তা দীর্ঘ হচ্ছে। দরদরিয়া গ্রামের রবিন আহমেদ (২৫) জানান, তিনি ১৮ দিন ধরে জ্বরে ভুগছেন। পরে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আড়াল গ্রামের রমজান দুই দিন ধরে জ্বরে ভোগার পর হাসপাতালে ভর্তি হন। বীর উজলী গ্রামের রইস উদ্দিন পাঁচ দিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

উত্তর খামের গ্রামের কামাল হোসেন জানান, হঠাৎ জ্বর আসার পর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। বীর উজলী এলাকার শিক্ষার্থী আনাছও পাঁচ-ছয় দিন জ্বরে ভোগার পর পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে। তরগাঁওয়ের যোবায়ের হোসেন জ্বরের সঙ্গে পেটব্যথার কথা জানিয়েছেন।
কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, আগের তুলনায় জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে এবং ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি নেই বলেও জানান তিনি।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সাত দিনে ৭৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত এবং ২৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে কাপাসিয়ার বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর তথ্য এ হিসাবের সঙ্গে সমন্বয় করা হলে উপজেলায় ডেঙ্গুর প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যেতে পারে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/গাজীপুর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!