গোপালগঞ্জে কলেজছাত্রকে পিটিয়ে-কুপিয়ে হত্যা
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় পূর্ববিরোধের জেরে জোবায়ের ভূঁইয়া (২২) নামে এক কলেজছাত্রকে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ছেলেকে রক্ষা করতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন তার বাবা রমজান ভূঁইয়া।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলার পাইককান্দি ইউনিয়নের পুখুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে জোবায়েরের মৃত্যু হয়।
নিহত জোবায়ের সদর উপজেলার ঘোড়াদাইড় গ্রামের রমজান ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি হাজী লালমিয়া সিটি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
.png)
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, কয়েক দিন আগে জোবায়েরের ফুফাতো ভাই সিয়ামকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুখুরিয়া গ্রামের শহিদ মোল্লার ছেলে সোহেলের সঙ্গে জোবায়েরের বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডাও হয়। এরই জেরে বৃহস্পতিবার সকালে টিউশনি শেষে বাড়ি ফেরার পথে জোবায়েরকে হামলা করা হয় বলে স্বজনদের দাবি।
নিহতের চাচা মো. হামিম ভূঁইয়া বলেন, সোহেলের নেতৃত্বে ৭ থেকে ৮ জন যুবক লাঠিসোটা নিয়ে জোবায়েরের ওপর হামলা চালায়। তারা তাকে মারধর করে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার সময় ফের হামলার শিকার হন।
তিনি আরও বলেন, এ সময় জোবায়ের ও তার বাবা রমজান ভূঁইয়াকে পিটিয়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত বাবা-ছেলেকে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জোবায়েরের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত রমজান ভূঁইয়া বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
তবে হামলার কারণ সম্পর্কে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, সকালে পুখুরিয়া এলাকা থেকে টিউশনি করে বাড়ি ফেরার পথে একদল লোক জোবায়েরের ওপর হামলা চালায়। লাঠিসোটা দিয়ে মারধরের পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।
ওসি বলেন, হামলার প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জোবায়েরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ।