ঢাকা,  সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

কটিয়াদীতে মসজিদের ইমামের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:১৮, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কটিয়াদীতে মসজিদের ইমামের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে দুই বন্ধুর মধ্যে রাতে ঝগড়ার পর সোহান (২৩) নামে এক যুবককে গলাকাটা ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর একই মসজিদের ইমাম মো. শামীম (২৫)-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চরঝাকালিয়া গ্রামের ইছাম উদ্দিনের বাড়ির নূরানী জামে মসজিদের পাশের ইমামের কক্ষ থেকে শামীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

শামীম ওই মসজিদের ইমাম ছিলেন। তিনি মসজিদের মোয়াজ্জিন ফরিদ মিয়ার ছেলে। আহত সোহান একই গ্রামের মৃত সৈয়দ মিয়ার ছেলে।

Advertisement

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শামীম ও সোহান ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে মসজিদের ভেতরে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে মসজিদের সামনে সোহানকে গলাকাটা, রক্তাক্ত ও উলঙ্গ অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা মনি আক্তার বলেন, রাতে মসজিদের পাশ থেকে হৈচৈ ও ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে তিনি ছেলেকে নিয়ে বাইরে বের হন। মসজিদের সামনে লাইট জ্বালিয়ে সোহানকে গলাকাটা ও রক্তাক্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। পরে তিনি চিৎকার করে পরিবারের সদস্যদের ডাকেন।

মনি আক্তারের ভাশুর আজিজ মিয়া বলেন, তাঁর ছোট ভাইয়ের স্ত্রী বিষয়টি জানালে তিনি মসজিদের সামনে যান। সেখানে সোহানকে মসজিদের গেটের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় বসে থাকতে দেখেন। তাঁর পাশেই বসেছিলেন ইমাম শামীম। সোহানের এ অবস্থা কীভাবে হলো জানতে চাইলে সে শামীম তাকে এভাবে মারধর করেছেন বলে জানায়।

পরে স্থানীয়রা সোহানকে উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এ সময় শামীমকে বাড়িতে চলে যেতে বলা হয়।

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সোহানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে শামীমকে বাড়িতে চলে যেতে বলে তিনি সোহানকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। সোমবার সকালে বাড়িতে ফোন করে তাঁকে জানানো হয়, মসজিদের পাশের ইমামের কক্ষে শামীমের ঝুলন্ত মরদেহ দেখা গেছে।

খবর পেয়ে কটিয়াদী মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শামীমের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে একটি অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কিশোরগঞ্জ/এমকে
ট্যাগ: কিশোরগঞ্জ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!