ঢাকা,  সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

গুইমারায় শহীদদের স্মরণে সভা, রামেসু বাজার হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি

খাগড়াছ‌ড়ি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:১৭, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গুইমারায় শহীদদের স্মরণে সভা, রামেসু বাজার হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

খাগড়াছড়ির গুইমারায় ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর রামেসু বাজারের ঘটনায় নিহত তিনজনকে স্মরণ করে সম্মান প্রদর্শন ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে শহীদ জুনান, রুবেল, অনিক, ধনঞ্জয় ও রামেসু বাজারে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন সভায় অংশ নেওয়া বক্তারা।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) গুইমারা রামেসু বাজারসংলগ্ন এলাকায় শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ সংসদ ও ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি উষাতন চাকমার সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ সংসদের সভাপতি রূপসি চাকমা, লক্ষীছড়ি ১ নম্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রবীল কুমার চাকমা, লক্ষীছড়ি কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রতন বিকাশ চাকমা, সিন্দুকছড়ির সাবেক ইউপি সদস্য সুধুঅং মারমা ও দূল্যাতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ত্রিলোন চাকমা।

Advertisement

এ ছাড়া হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি রেশমি মারমা সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন।

স্মরণসভা শুরুর আগে একটি চৌকস দল তিন শহীদের প্রতিকৃতি স্থাপন করে। পরে অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে বিভিন্ন সংগঠন ও শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে আথুইয়ের মা নুনুমা মারমা ও আক্রইয়ের মা ক্রাথং মারমা শ্রদ্ধা জানান। শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ সংসদের পক্ষ থেকে রূপসি চাকমা এবং শহীদ রুবেলের মা শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন।

এ সময় ইউপিডিএফের সংগঠক অংক্যচিং মারমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক অনিমেষ চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের প্রতিনিধি রেশমি মারমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বরুণ চাকমা, ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের উষাতন চাকমা এবং অগ্রণী শিশু-কিশোর কেন্দ্রের সদস্যরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষে সাইরেন বাজিয়ে দুই মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে সাধারণ শিক্ষার্থী সুমনা মারমা উপস্থিতদের শপথবাক্য পাঠ করান। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতা কালো ব্যাজ ধারণ করেন।

সভায় বক্তারা বলেন, ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গুইমারার রামেসু বাজারে অগ্নিসংযোগ ও গুলির ঘটনায় আক্রই, আথুই ও থৈইচিং মারমা নিহত হন এবং অনেকে আহত হন। তারা এ ঘটনার পাশাপাশি শহীদ জুনান, রুবেল, অনিক ও ধনঞ্জয়ের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

বক্তারা আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন প্রতিবাদ ও আন্দোলনের ক্ষেত্রে নানা ধরনের চাপ ও প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, অন্যায় ও দমন-পীড়নের প্রতিবাদ করলে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন তকমা দিয়ে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করা হয়। রামেসু বাজারের ঘটনাকে তারা এর একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তারা রামেসু বাজারে অগ্নিসংযোগ ও হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, খাগড়াছড়ির চিঙ্গিনালায় এক মারমা স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে রামেসু বাজারে নৃশংস ঘটনা ঘটে। ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও এর সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলেও তারা দাবি করেন।

স্মরণসভা থেকে আগামী ১৩ অক্টোবর পার্বত্য চট্টগ্রামের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রথম শহীদ ভরদ্বাজ মুনির শহীদ দিবস উপলক্ষে কনভেনশন আয়োজনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক উষাতন চাকমা কর্মসূচি ঘোষণা করে সবাইকে এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

পরে সাংস্কৃতিক স্কোয়াডের পরিবেশনায় একটি প্রতিবাদী নাট্যকলা প্রদর্শিত হয়। এতে আক্রই, আথুই ও থৈইচিং মারমার নিহত হওয়ার ঘটনা তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠান শেষে অগ্রণী শিশু-কিশোর কেন্দ্রের সদস্যরা কয়েকটি কুশপুত্তলিকা লাঠিপেটা করে আগুনে পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানান।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!