কালিয়াকৈরে ৬০০ গাইডের জাতীয় ক্যাম্প শুরু
প্রকৃতির সান্নিধ্যে থেকে নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, সৃজনশীলতা ও আত্মনির্ভরতার শিক্ষা নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে জড়ো হয়েছেন প্রায় ৬০০ গাইড, গাইডার ও কমিশনার। বাংলাদেশ গার্ল গাইডস্ অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে শুরু হয়েছে সাত দিনব্যাপী ১৩তম জাতীয় গাইড ক্যাম্প-২০২৬।
রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল ১০টায় কালিয়াকৈর উপজেলার বাড়ইপাড়ায় বাংলাদেশ গার্ল গাইডস্ অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় ক্যাম্প এলাকায় বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ক্যাম্পের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। আগামী ৯ অক্টোবর পর্যন্ত এ ক্যাম্প চলবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নূরুল করিম ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এম রকিবুল হাসান। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ডা. মাহমুদ নিলয় এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুন নাহার শিলা।
.png)
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ গার্ল গাইডস্ অ্যাসোসিয়েশনের ডেপুটি জাতীয় কমিশনার (প্রোগ্রাম) প্রফেসর ড. ইয়াসমিন আহমেদ, জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং গাইড কমিশনার ডা. মারিয়া ইয়াসমিনসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা প্রায় ৬০০ গাইড, গাইডার ও কমিশনার অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ গার্ল গাইডস্ অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় কমিশনার ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গ্রেড-১ কর্মকর্তা (অব.) কাজী জেবুন্নেছা বেগম।
তাঁবু স্থাপন ও প্রশিক্ষণে গুরুত্ব
সাত দিনের এ ক্যাম্পে অংশগ্রহণকারীদের জন্য রাখা হয়েছে তাঁবু স্থাপন, প্রকৃতির মাঝে অবস্থান, বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সৃজনশীল কর্মসূচি। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে গাইডদের নেতৃত্বগুণ, দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও আত্মনির্ভরতা বাড়ানোর পাশাপাশি দলগতভাবে কাজ করার দক্ষতা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।
ক্যাম্পে নিজেদের সুপ্ত প্রতিভা ও সৃজনশীলতা বিকাশে নানা কার্যক্রমেও অংশ নিচ্ছেন গাইডরা। প্রকৃতির কাছাকাছি থেকে জীবনযাপন ও বিভিন্ন ব্যবহারিক কাজের মাধ্যমে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন তারা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা গাইডদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা সংগীত, নৃত্যসহ বিভিন্ন পরিবেশনায় অংশ নেন।
১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠা
বাংলাদেশ সরকারের ৩১ নম্বর আইনের মাধ্যমে ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ গার্ল গাইডস্ অ্যাসোসিয়েশন। দেশের মেয়ে শিশু, কিশোরী ও যুব নারীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিভিন্ন শিক্ষাসহায়ক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে সংগঠনটি।
বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি গাইডিং কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও সৃজনশীলতা বিকাশে কাজ করছে বাংলাদেশ গার্ল গাইডস্ অ্যাসোসিয়েশন। জাতীয় গাইড ক্যাম্পের মতো আয়োজনের মাধ্যমে এসব দক্ষতা বাস্তব জীবনে প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।