প্রবাস জীবন ছেড়ে শরীফের কৃষিতে সাফল্য
প্রবাস জীবনের ব্যস্ততা ছেড়ে নিজ এলাকায় ফিরে কৃষিকাজে মনোনিবেশ করে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের যুবক মো. শরীফ। বিদেশ থেকে ফিরে গড়ে তুলেছেন নানা জাতের ফলের বাগান। চলতি বছর নিজের বাগানে উৎপাদিত ড্রাগন ফল, মাল্টা, পেয়ারা, লেবু, পেঁপেসহ বিভিন্ন ফল ও কৃষিপণ্য বিক্রি করে প্রায় ১০ লাখ টাকা আয় করেছেন তিনি।
শরীফের বাগানে রয়েছে বিভিন্ন জাতের ফলের গাছ। পরিকল্পিতভাবে বাগান পরিচর্যা, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার ও নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিজের কৃষি উদ্যোগকে লাভজনক পর্যায়ে নিয়ে গেছেন তিনি। প্রবাস থেকে ফিরে কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তই বদলে দিয়েছে তার জীবনের গতিপথ।
শরীফের এই সাফল্য কেবল তার নিজের কর্মসংস্থানই তৈরি করেনি, বরং স্থানীয় কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তার মতো তরুণরা কৃষিতে এগিয়ে এলে একদিকে যেমন কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ।
.png)
চরফ্যাশন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, প্রবাসজীবন শেষে শরীফ কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে সফলতার উদাহরণ তৈরি করেছেন। আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক কৃষি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ফলের বাগান গড়ে তুলে তিনি নিজের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতেও অবদান রাখছেন। কৃষিতে আগ্রহী তরুণ উদ্যোক্তাদের এমন উদ্যোগে কৃষি বিভাগ প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে পাশে থাকবে।
সম্প্রতি নিজের বাগানে উৎপাদিত বিভিন্ন ফল কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের উপহার দিতে উপজেলা কৃষি কার্যালয়ে যান তরুণ উদ্যোক্তা শরীফ। তার এই উদ্যোগকে কৃষির প্রতি তরুণদের আগ্রহ সৃষ্টির ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নিজ মাটিতে কৃষির মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার এই উদ্যোগ স্থানীয় তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।