ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

চরফ্যাশনে ইলিশ নিষেধাজ্ঞায় খাদ্য সহায়তা নিয়ে ক্ষোভ

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:৪০, ৮ অক্টোবর ২০২৬
চরফ্যাশনে ইলিশ নিষেধাজ্ঞায় খাদ্য সহায়তা নিয়ে ক্ষোভ
চরফ্যাশনে ঘাটে ভেড়ানো মাছ ধরা ট্রলার। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

‎‎মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। এ সময়ে নদী ও সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় চরম সংকটে পড়েছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার হাজারো জেলে। নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারি খাদ্য সহায়তা দেওয়ার কথা থাকলেও সেই সহায়তার তালিকা নিয়ে উঠেছে নানা অভিযোগ। প্রকৃত জেলেদের বাদ দিয়ে অনিয়মের মাধ্যমে অযোগ্য ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় জেলেরা।
‎
‎জেলেদের অভিযোগ, মাছ ধরা বন্ধ থাকায় তাদের আয়-রোজগারের পথও বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকেই ধার-দেনা করে নৌকা ও জাল প্রস্তুত করে সাগর-নদীতে মাছ ধরতে যান। নিষেধাজ্ঞার সময়ে হাতে কাজ না থাকায় পরিবার নিয়ে খাদ্যসংকটে পড়তে হচ্ছে তাদের।
‎
‎চরফ্যাশনের মাদ্রাজ ইউনিয়নের সামরাজ এলাকায় জেলেদের একটি অংশ জানান, বছরের পর বছর নদীতে মাছ ধরলেও সরকারি সহায়তার তালিকায় তারা অনেক সময় জায়গা পান না। তাদের দাবি, প্রকৃত জেলেদের যাচাই করে নতুন তালিকা করা এবং খাদ্য সহায়তার পরিমাণ বাড়ানো প্রয়োজন।
‎
‎মেঘনা-২ বোটের জেলে জহির উদ্দিন বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকেই কোনো চাল, টাকা কিংবা সরকারি সহায়তা পাইনি। সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে। মাছ ধরা বন্ধ থাকলে সংসার চালানো কঠিন।
‎
‎আরেক জেলে হোসেন বেপারি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নদীতে মাছ ধরলেও নিষেধাজ্ঞার সময়ে সরকারি সহায়তা পাননি। তাঁর অভিযোগ, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির কারণে প্রকৃত জেলেদের অনেকেই তালিকার বাইরে রয়েছেন।
‎
‎জেলেদের দাবি, শুধু কাগজে-কলমে তালিকা না করে মাঠপর্যায়ে যাচাই করে প্রকৃত জেলেদের চিহ্নিত করতে হবে। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞার সময়ের খাদ্য সহায়তা দ্রুত জেলেদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
‎
‎চরফ্যাশন উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় ৪১ হাজার ২০০ জন। তাদের মধ্যে বরাদ্দের আওতায় রয়েছেন ৩৫ হাজার ৭৫৬ জন। নিবন্ধিত জেলেদের জন্য জনপ্রতি ২৫ কেজি করে মোট প্রায় ৮৯১ দশমিক ৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে বরাদ্দের বাইরে রয়েছেন কয়েক হাজার নিবন্ধিত জেলে।
‎
‎এদিকে জেলেদের অভিযোগ, তালিকায় নাম থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে যথাসময়ে চাল পাওয়া যায় না। আবার প্রকৃত জেলে বাদ পড়ার অভিযোগও রয়েছে। ফলে নিষেধাজ্ঞার পুরো সময় পরিবার নিয়ে কীভাবে চলবেন- তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
‎
‎চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, চাল বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম, কম দেওয়া বা স্বজনপ্রীতি বরদাশত করা হবে না। ট্যাগ অফিসারদের উপস্থিতিতে চাল বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেউ চাল আত্মসাৎ বা বিতরণে অনিয়ম করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রকৃত জেলেরা যাতে সহায়তা পান, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে তালিকা যাচাই করা হচ্ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ভোলা
ট্যাগ: ভোলা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!